রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে এক সংবাদকর্মীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। আজ রোববার সকালে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ১১ নম্বর লাইনের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পল্লবী থানার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) উপস্থিতিতে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংবাদকর্মী মাসুদ জিয়া ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মাসুদ জিয়ার মিরপুরের বাসায় আজ সকালে পল্লবীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নান্নু একদল লোক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ঘরের ভেতর ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পিংকি আক্তারের ছোট বোন এবং তাদের মাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে পল্লবী থানার এসআই ফারুকের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে। নান্নু ও তার সহযোগীরা থানায় একটি মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ দায়ের করে পুলিশকে সাথে নিয়ে ওই বাসায় যায়। এসআই ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই পিংকি আক্তারের ভাই ওলিকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। ওলিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরপরই নান্নুর বাহিনী পুরো বাড়ি অবরুদ্ধ করে লুটপাটের তাণ্ডব শুরু করে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চলার সময় এসআই ফারুককে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ জানানো হয়। শতবার ফোন করার পরও তিনি ঘটনাস্থলে ফিরে আসেননি। উল্টো তিনি ভুক্তভোগীদের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। দিনে-দুপুরে একটি বাড়িতে হামলা ও নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতন চলার পরও পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, পুলিশ কি আইনের সেবা করছে নাকি কোনো ব্যক্তির স্বার্থ হাসিল করছে?
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নান্নু এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক ব্যবসা, ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে নিজ পরিবারও তার সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এরপর থেকে নান্নু আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থের জোরে এলাকায় একের পর এক মামলা-হামলা ও জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পল্লবী থানার এসআই ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে পল্লবী থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply