মে মাসের বকেয়া বেতন, এরিয়ার বিল পরিশোধ এবং চাকরির নিরাপত্তাসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নাসা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পরে পুলিশ ও মালিকপক্ষের আশ্বাসে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সকালের দিকে শত শত শ্রমিক মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে অবস্থান নিলে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে গণপরিবহন না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
তবে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, তাদের এই কর্মসূচি ছিল বেঁচে থাকার লড়াই। ঈদের ছুটির পর কারখানা খুললেও বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করে হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক কাজল আক্তার বলেন, ঈদের আগে আমাদের বলা হয়েছিল ছুটির পর সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন কারখানায় গিয়ে দেখি বন্ধ। বাসা ভাড়া বাকি, দোকানে দেনা আছে। সন্তানদের খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হচ্ছে।
আরেক শ্রমিক মো. রাসেল অভিযোগ করে বলেন, এক মাসের বেতন না পেলে আমাদের সংসার চলে না। আমরা দিন আনি দিন খাই মানুষ। বেতন না পেয়ে ধারদেনা করে চলছি। এখন আবার কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কোথায় যাব?
শ্রমিক নাসিমা আক্তার বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এই কারখানায় কাজ করি। দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি। বেতন না পাওয়ায় বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছে। সন্তানদের স্কুলের বেতনও দিতে পারিনি। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, শুধু মে মাসের বেতনই নয়, বিভিন্ন সময়ের এরিয়ার বিল এবং অন্যান্য পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি। এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার বিভিন্ন মোড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও শ্রমিকদের দুর্দশার প্রতি সহানুভূতিও জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। পরে পুলিশ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, শ্রমিকরা বকেয়া বেতনসহ কয়েকটি দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। আলোচনা শেষে তাদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং চাকরির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
Leave a Reply