ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, সাধারণ মানুষের আমানতের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের দাবিতে দুই ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শাখার সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ, এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের বয়কট এবং অতীতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের মিরপুরের রূপনগর মহিলা শাখার সামনেও কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ গ্রাহকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মানববন্ধনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার হাসান মো. ইউসুফ, মোশাররফ হোসেন, শেখ নুরুন্নবী মানিক, মুস্তাফিজুর রহমান, মাহফুজউল্লাহ এবং শামীম আহমেদ।
বক্তারা বলেন, “ইসলামী ব্যাংক দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও হালাল উপার্জনের নিরাপদ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিগত সরকারের সময় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও এস আলম সিন্ডিকেট ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ লুণ্ঠন ও পাচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আর্থিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, “যারা ব্যাংকের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে কিংবা সেই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করেছে, তাদের কোনোভাবেই ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকার সুযোগ নেই। অবিলম্বে বর্তমান পর্ষদ পুনর্গঠন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা অতীতে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন গ্রাহকদের ওপর পরিচালিত পুলিশি হামলারও নিন্দা জানান। তারা বলেন, ব্যাংক রক্ষার আন্দোলনকে দমন করতে বিভিন্ন সময়ে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহক প্রতিনিধিরা তাদের কষ্টার্জিত আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।
গ্রাহকরা বলেন, লুণ্ঠিত অর্থ পুনরুদ্ধার, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিতকরণ এবং পেশাদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নির্ধারিত দুই ঘণ্টার কর্মসূচি সফলভাবে পালনের জন্য ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আন্দোলনের নেতারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান সংস্কার এবং পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে রূপনগরসহ সারা দেশে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে অবিলম্বে কার্যকর সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
Leave a Reply