রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ পুকুরপাড় এলাকায় ঘর দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরবর্তীতে আহত নারীর মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পেছনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-এ, বাউনিয়াবাধ বেরিবাঁধ বস্তিতে ভুক্তভোগী মোছাঃ পাখির দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘর রয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ওই ঘরটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে কাইল্লা মোতালেব, চোরা শাহিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২২ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের একটি দোকানের সামনে গেলে অভিযুক্তরা তাকে ধাওয়া করে পুনরায় মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় তাকে লাথি, কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরার চেষ্টা করা হয় এবং তার সঙ্গে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। একই ঘটনায় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পাখিকে মারধর করে ফেলে রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর একই দিন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ইব্রাহিম খলিল পুনরায় তার সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় পাখির মা, বড় বোন নার্গিস, ভাই নাছিরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে স্থানীয় চাউল ব্যবসায়ী রফের কাছে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটি কাউকে না দেওয়ার জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও দায়ীদের পরিচয় স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে পরিবারের দাবি, হামলায় আহত হওয়ার পর পাখির মা শারীরিক ব্যথা ও জটিলতায় ভুগছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের আরও ক্ষতি করতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply