বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
কোটচাঁদপুরে ভূমি কর্মকর্তার কাণ্ড: ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ মামলা হলেও ধরছে না পুলিশ: এলাকায় সক্রিয় ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনী গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে পল্লবীতে দাবিতে ইসলামি ব্যাংকের মানববন্ধন ও কলম বিরতি পল্লবীতে বিএনপি নেতা ‘মুন্না’কে হেরোইন ও ইয়াবাসহ আটক করেছে ডিবির পুলিশ মিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৫ জন গ্রেফতার হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য, সামনে এলো আরও কয়েকজনের নাম প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ বাতিল, গ্রাহকদের স্বস্তি মিরপুরে গোপনে গড়ে ওঠা ‘মোল্লা সাম্রাজ্য’, আড়ালে থাকেন উপসচিব ‘আবু সাঈদ’ মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ পেল রূপনগর-পল্লবীর ৫০০ পরিবার

কোটচাঁদপুরে ভূমি কর্মকর্তার কাণ্ড: ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের পাঁচলিয়া গ্রামে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ এবং প্রতিবাদ করায় উল্টো হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষায় জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই একটি রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করেন সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা। জমির মালিক বাধা দিলে পরে তার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান মন্টু অভিযোগ করেন, তাঁর পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমির ওপর দিয়ে কোনো ধরনের অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ বা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই জোরপূর্বক ইট সলিংয়ের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ বা পরিমাপ না করেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা একপেশে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি বারবার লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু প্রতিকার পাইনি।”

মন্টুর দাবি, রাস্তা নির্মাণের সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার বাধা দিলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি জমির বেড়া ভেঙে রাস্তার জন্য জায়গা তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর স্বার্থেই সরকারি প্রভাব খাটিয়ে রাস্তা ও প্রবেশ গেট নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কোটচাঁদপুর ভূমি অফিস, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৮ জুন দোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় সাইদুর রহমান মন্টুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ১১ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচলিয়া মৌজার ৩২৩ নম্বর দাগের ০.০৫০০ একর জমি দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে সরকারি রাস্তা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ৫ জুন সাইদুর রহমান মন্টু সরকারি রাস্তার ইট তুলে ও মাটি কেটে রাস্তা দখল এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মন্টু বলেন, “যে জমিকে সরকারি রাস্তা বলা হচ্ছে, সেটি আমার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। কোনো নিরপেক্ষ জরিপ বা পরিমাপ ছাড়াই আমাকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জমির প্রকৃত মালিকানা, খতিয়ান ও সীমানা নির্ধারণ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। অথচ এ ক্ষেত্রে কোনো ডিজিটাল সার্ভে, নিরপেক্ষ আমিন দ্বারা পরিমাপ বা যৌথ যাচাই ছাড়া সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন তুলেছে।

এলাকাবাসীর মতে, জমিটি প্রকৃতপক্ষে সরকারি রাস্তা নাকি ব্যক্তিগত সম্পত্তি, তা সিএস, আরএস ও বিএস খতিয়ান পর্যালোচনা এবং সরকারি ও বেসরকারি আমিনের উপস্থিতিতে যৌথ পরিমাপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত ছিল।

বর্তমানে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কোটচাঁদপুর থানার এসআই মো. আনিসুরুল হককে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা মামলাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, একজন বৃদ্ধ নাগরিককে আইনি জটিলতায় ফেলে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জমির মালিকানা ও রাস্তার বৈধতা যাচাই করে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com