রাজধানীর মিরপুর-পল্লবী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, অস্ত্রের মহড়া এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে “ভইরা-দে গ্রুপ” এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য শিশির আহম্মেদ ইমনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৪।
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কাজ করে আসছে র্যাব। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ জুন) ভোরে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে “ভইরা-দে গ্রুপ” এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য শিশির আহম্মেদ ইমন (২১), আব্দুল্লাহ (২৩) এবং আল আমিন (২৫)-কে গ্রেফতার করে।
র্যাবের প্রাথমিক তদন্ত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এসব ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। আলোচিত এসব গ্যাংয়ের মধ্যে আশিকুর রহমান শান্ত ওরফে আশিকের নেতৃত্বাধীন “ভইরা-দে গ্রুপ” অন্যতম বলে জানিয়েছে র্যাব।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় জাহিদ হাসান সুমন, বিপ্লব এবং তাদের আপন ভাই হৃদয় গাড়িযোগে বাসায় ফেরার পথে পল্লবী এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে ইমনসহ ৭ থেকে ৮ জন সহযোগী তাদের পথরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, “ভইরা-দে গ্রুপ” এর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, গোলাগুলি, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মারামারি, মাদক সেবন ও ব্যবসা, ইভটিজিং এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রুপটির সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পরপরই র্যাব-৪ এর গোয়েন্দা দল বিষয়টির রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ইমনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নামে সংঘবদ্ধ অপরাধ, অস্ত্রের মহড়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরে আসবে।
Leave a Reply