ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের একটি অভিযানে ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহজাদা মহসিন পরাগ (৪৪) গ্রেফতার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শাহজাদা মহসিন পরাগ ঝালকাঠি পৌরসভার ১১ নম্বর রোনালস রোড এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত কাঞ্চন আলী খান এবং মাতা মাহমুদা জেসমিন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর মুক্তির দাবিতে একটি মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে শাহজাদা মহসিন পরাগসহ কয়েকজনকে আটক করে।
একই অভিযানে আটক অন্যরা হলেন আহসান হাবীব রুবেল, মেহেদী হাসান মুন্না এবং রেজাউল করিম জাকির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শাহজাদা মহসিন পরাগ রাজধানীতে আত্মগোপনে ছিলেন। এছাড়া তার বোন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ঢাকার একজন পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, শাহজাদা মহসিন পরাগ ‘বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের’ মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা শাহজাদী কুনজেনুরের আপন ভাই। পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, শাহজাদী কুনজেনুর ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে শাহজাদা মহসিন পরাগের গ্রেপ্তারের পর তাকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে তদবিরের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও ডিবি সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও পুলিশ পরিদর্শক শাহজাদী কুনজেনুর তার সংগঠনের সভাপতি এবং বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান জুয়েলের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ ও তদবিরের চেষ্টা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, শাহজাদা মহসিন পরাগের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়ের গ্রেপ্তার এবং তাকে ঘিরে কথিত তদবিরের অভিযোগ বিষয়টিকে আরও আলোচিত করে তুলেছে।
Leave a Reply