বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাফরুল থানায় হাজতখানায় স্বজনের সাক্ষাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রোটারি ক্লাব অব সিলেট ক্বীন ব্রিজের ১৪তম অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ঠাকুরগাঁওয়ে ১১০ পিস টাপেন্টাডল ও নগদ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সুমন খান পল্লবীতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি ও অপহরণ মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপে পুলিশ ক্লাবের বাজিমাত পল্লবীতে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়: বাউনিয়াবাঁধ পুকুরপাড় বস্তিবাসীর মানববন্ধন উন্নত চিকিৎসা সেবা আর পরম যত্নের প্রতিচ্ছবি: শ্যামলী বেবি কেয়ার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল মিরপুরে হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক ছয়টি মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। এর ফলে ফরিদুল মোস্তফা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এই সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, “রাষ্ট্রীয় আইন ও বিচার বিভাগ আন্তরিক হলেই কেবল এই মামলা গুলো প্রত্যাহার সম্ভব। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে এক সাংবাদিককে হয়রানির জন্য আদালতের উচিত ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা খরচ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ৫ বছরেও এসব ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার না হওয়া খুবই রহস্যজনক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক আবেদন করা হলেও সেসব আজও ঝুলে আছে।”

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা জানান, ওসি প্রদীপের মৃত্যুদণ্ডাদেশ একটি যুগান্তকারী রায় হলেও তিনি এখনো তার নির্মম অত্যাচারের বোঝা বইতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, “এই ছয়টি সাজানো মামলার বিচারিক লড়াই চালাতে গিয়ে আমি সর্বস্বান্ত। চিকিৎসা ও আইনি খরচ চালাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। আমি পরিত্রাণ চাই, দেশের সকল সাংবাদিক বন্ধুদের পাশে চাই।”

২০১৯ সালে ‘টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ’ শিরোনামে একাধিক সংবাদ প্রকাশের কারণে তিনি ওসি প্রদীপ এবং কক্সবাজারের তৎকালীন এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়েন। এরপর তাকে ঢাকায় অবস্থানরত অবস্থায় বিনা পরোয়ানায় আটক করে টেকনাফ থানায় এনে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির ছয়টি মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সেই সময়ে কোনো গণমাধ্যম এই অন্যায়ের খবর প্রচারের সাহস পায়নি। ফরিদুল মোস্তফা দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন। পরে বিএমএসএফ-এর আইনি সহায়তায় তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং অসুস্থ অবস্থায় বের হয়ে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে সংগঠন থেকে এক লাখ টাকা সহায়তা পান।

অন্যদিকে ফরিদুল মোস্তফা কর্তৃক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত পাঁচ বছরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এখনও জমা দেয়নি।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম দ্রুত মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান ও ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com
Develope By Software IT