শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লবীতে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার গৌরীপুরে বরাদ্দ হরিলুটের অভিযোগ, নেপথ্যে পিআইও আলাল উদ্দিন! কাফরুল থানায় হাজতখানায় স্বজনের সাক্ষাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রোটারি ক্লাব অব সিলেট ক্বীন ব্রিজের ১৪তম অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ঠাকুরগাঁওয়ে ১১০ পিস টাপেন্টাডল ও নগদ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সুমন খান পল্লবীতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি ও অপহরণ মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপে পুলিশ ক্লাবের বাজিমাত পল্লবীতে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা, ৮১ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ

দ্য ক্রাইম সার্চ ডেস্ক
  • আপডেটের সময়: সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ৮১ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপনের ঘটনায়। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দোষীদের আড়াল করার এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা, যা দেশের আর্থিক খাতকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক ৮১ হাজার কোটি টাকারও বেশি খেলাপি ঋণ ‘ওয়াইট-অফ’ বা অবলোপন করেছে। এর মানে হচ্ছে, এই ঋণগুলিকে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যেন এগুলো আর আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত না থাকে। তবে বাস্তবে এসব ঋণের বড় অংশই আদায় হয়নি, এবং আদায়ের সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

বিশ্লেষকদের মতে, অবলোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপিদের আইনি বা নীতিগত জবাবদিহির আওতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে শুধু ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাই দুর্বল হয় না, বরং সাধারণ আমানতকারীদের সঞ্চয়ও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “ঋণ অবলোপন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা আনা, কিন্তু বাস্তবে এটি খেলাপি সংস্কৃতি উৎসাহিত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।”

ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, যেসব বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী গ্রুপ বছরের পর বছর ঋণ ফেরত না দিয়ে পার পেয়ে গেছে, তারাই মূলত এই সুবিধা পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা ঋণ অবলোপনের সুবিধা নিয়েছে, তারা একই সঙ্গে নতুন করে ঋণও পাচ্ছে।

সরকারি পর্যায়ে কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি একটি “অডিট-সমন্বয় প্রক্রিয়া” মাত্র। কিন্তু আর্থিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা বিষয়টিকে দায়মুক্তির “নতুন মোড়ক” হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে আরও জানা গেছে, অবলোপনকৃত ঋণগুলোর বিরুদ্ধে মামলা জারি থাকলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদায় কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাংকগুলোর সম্পদমান নষ্ট হচ্ছে এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এখনই শক্ত হাতে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com