স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ সদস্যরা সিভিল ড্রেসে (সাধারণ পোশাকে) আসামি গ্রেফতার করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে আবারও তেলবাজির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে- এটি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, যশোর সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল জেএম ইমদাদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগের ডিআইজি রেজাউল হক, জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার রওনক জাহান উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নজরে রাখতে হবে এবং অতীতে ছাত্র-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারেও উদ্যোগ নিতে হবে।”
মাদক নিয়ন্ত্রণে জোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অ্যাকশন না নিলে চাকরি থাকবে না।” তিনি মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন চান।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতে পেরেছি, বদলি বাণিজ্যও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন ওসিদের ঘুষ নেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে এখনো তদবির প্রথা বন্ধ হয়নি।”
একটি ব্যতিক্রমী মন্তব্যে তিনি জানান, উপদেষ্টা হওয়ার পর তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। “যাদের অনেককে আমি চিনি না। কেউ আমার নামে তদবির করতে এলে আগে চা-নাস্তা খাওয়াবেন, তারপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন,” বলেন তিনি।
এই বক্তব্য দেশের পুলিশি কার্যক্রম ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বক্তব্যের বাস্তবায়ন হলে পুলিশ বাহিনীর ভেতরের দুর্নীতি ও অপেশাদারিত্ব হ্রাস পাবে।
Leave a Reply