রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে তৎপরতা: আলোচনায় মেহেরুন্নেসা হক সাংবাদিক ‘রিয়াদুল মামুন সোহাগ’র জন্মদিন ভোলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিকের পরিবারের ওপর ফের হামলার অভিযোগ নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা না আত্মহত্যা-রহস্যে ঘেরা মৃত্যু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুনের বিরুদ্ধে অনিয়মের যতসব অভিযোগ কিবরিয়া হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য ও চাঁদাবাজি গাজীপুরে কিশোরকে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাই: কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় সাংবাদিকের উপর অতর্কিত হামলা, জখম ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর খুনির সহযোগীর বক্তব্য আমরা শুনি না : জামায়াত আমির দ্বিতীয় দিনের মতো কমলো স্বর্ণের দাম

তাপস-ইনুর সঙ্গে হাসিনার ফোনালাপে উঠে এসেছে যেসব তথ্য

অনলাইন ডেক্স
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
তাপস-ইনুর সঙ্গে হাসিনার ফোনালাপে উঠে এসেছে যেসব তথ্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়। এই রায় উল্লেখ করা হয়, শীর্ষ পর্যায়ের দমন-পীড়ন ও হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সরাসরি সংযুক্ত ছিলেন আসামিরা। যে কারণে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে উঠে এসেছে আওয়ামী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কীভাবে দমন-পীড়ন ও হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ। রায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপের তথ্য উঠে আসে।

রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় এবং হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরই জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এছাড়া একই দিন সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই অপরাধগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে একটি ধারায় আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট দুটি অপরাধের অধীনে মোট ৬টি ‘কাউন্ট’ বা ঘটনার উল্লেখ করেছেন আদালত। এর এক নম্বর অভিযোগে তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রথমত, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য। দ্বিতীয়ত, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ‘ফাঁসি দেওয়ার’ উসকানি ও নির্দেশ।

রায়ে বলা হয়, অধস্তনদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আসামিরা কোনো বাধা দেননি। তৃতীয়ত, এসব উসকানি ও নির্দেশের ধারাবাহিকতায় রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধগুলোর জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই নম্বর অভিযোগেও তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগগুলো হলো-গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ৬ জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই ৫ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। এছাড়া রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসাবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com