মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে শিউলি আক্তার পিংকি নামের এক নারী তার সন্তানসহ স্বামীর স্বীকৃতি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘটকের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও স্বামী জাকির হোসেন শেখ এখন স্ত্রী ও সন্তানকে অস্বীকার করছেন।
ভুক্তভোগী পিংকি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ধামারন গ্রামের সোবহান শেখের ছেলে জাকির হোসেন শেখ (৪৬), যিনি এলাকায় একজন সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত, তাকে বিয়ে করেন ২০২৪ সালের ১৯ মে। এটি পিংকির দ্বিতীয় ও জাকিরের তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর প্রথম এক মাস ভালোভাবে সংসার চললেও পিংকি গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।
পিংকির ভাষ্যমতে, “আমার গর্ভধারণ করাই যেন আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। জাকির, তার বোন ছানোয়ারা আক্তার ও আগের সংসারের সন্তানরা মিলে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। এমনকি জোর করে গর্ভপাত করানোর চেষ্টাও করা হয়।”
এই নির্যাতনের চরম পর্যায়ে ৪ মাসের গর্ভাবস্থায় পিংকি এক কাপড়ে বাবার বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে তার কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে, বয়স দুই মাস। কিন্তু এখনো বাবার স্বীকৃতি না পাওয়ায় সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতেও সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
গত ২৭ এপ্রিল (রোববার) ভোটার আইডির ফটোকপি আনতে স্বামীর বাড়িতে গেলে পিংকি আরও এক দফা গালিগালাজ ও মারধরের শিকার হন। তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১১১৫) করেছেন তিনি।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও জাকির হোসেন কারো কথায় কর্ণপাত করছেন না। এ অবস্থায় নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করেছেন পিংকি।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিদুল ইসলাম জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভুক্তভোগী মা ও তার শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply