যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় উদ্যোগ হিসেবে দেশের সব স্কুলের মাঠ সাধারণ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। তিনি জানান, এখন থেকে শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, বরং আশপাশের এলাকার বাইরের শিশুরাও প্রতিদিন সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত স্কুল মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামে খেলার মাঠের সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে তারা মোবাইল ও ইন্টারনেটনির্ভর জীবনে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার স্কুলের মাঠগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ভাষায়, “মাঠ বাঁচলে তরুণ প্রজন্ম বাঁচবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি সুস্থ জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠ খোলা রাখার সময়সূচি নির্ধারণ করবে। সাধারণত স্কুল ছুটির পর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত মাঠ উন্মুক্ত থাকবে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় যুব সংগঠন, ক্রীড়া ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে মাঠ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই ঘোষণায় অভিভাবক ও কিশোরদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে শিশুদের শারীরিক চর্চা বাড়বে, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে এবং অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের এলাকায় খেলার মতো আলাদা মাঠ নেই। স্কুল মাঠ খুলে দিলে বাচ্চারা নিরাপদ পরিবেশে খেলতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, দলগত কাজের মানসিকতা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ উদ্যোগ ধাপে ধাপে সারা দেশে কার্যকর করা হবে। মাঠভিত্তিক খেলাধুলা পুনরুজ্জীবিত করে একটি সক্রিয়, সুস্থ ও প্রাণবন্ত প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
Leave a Reply