গোপালগঞ্জের কাঠী এলাকার বাসিন্দা কেরামত মোল্লার বিরুদ্ধে প্রবাসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও তিনি কাঠী বাজারে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
ভুয়া নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ:
অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবে গিয়ে তিনি কথিত নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেকার যুবকদের সৌদি আরবে মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। অনেককে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছে এবং ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
আরও জানা গেছে, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে সৌদিতে দুটি অফিস স্থাপন করে একই কৌশলে আরও মানুষকে টার্গেট করা হয়। দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হুন্ডি লেনদেন ও সম্পদ গড়ার অভিযোগ:
এলাকাবাসীর দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের পাশাপাশি অবৈধ হুন্ডি লেনদেনের মাধ্যমেও দেশে টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে গোপালগঞ্জের ঘোসেরচর মঠ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুই তলা বাড়ি নির্মাণ এবং জমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। কাঠী গ্রামেও জমিসহ বাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগদ অর্থ বাড়িতে সংরক্ষণ করে পরে তা স্বর্ণালঙ্কারে রূপান্তর করা হতো। স্ত্রী ও সন্তানদের নামে-বেনামে বিভিন্ন স্থানে সম্পদ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর চৌরঙ্গী কালী বাড়ী এলাকায় স্বর্ণ বিক্রির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেরামত মোল্লার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অতীত বিতর্ক ও বর্তমান অবস্থান:
স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, অতীতে একবার বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরে মুক্তি পান তিনি। এছাড়া সৌদি আরবে তার এক আত্মীয় মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তার হন বলেও শোনা যায়, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে নিজেকে শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কালো টাকা সাদা করতে জমি, বাড়ি ও মূল্যবান সম্পদ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
কাঠী এলাকার বাসিন্দা মাসুদ বলেন, “কয়েক বছর আগেও তিনি বাজারে চা বিক্রি করতেন। এখন হঠাৎ এত সম্পদের মালিক হওয়ায় মানুষের প্রশ্ন থাকবেই। যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার প্রয়োজন। আরেক বাসিন্দা নজরুল বলেন, “অল্প সময়ে এত সম্পদ অর্জনের উৎস খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ থানার ওসি বলেন, “ভুক্তভোগীরা যদি একটি লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তদন্তের দাবি:
এলাকাবাসীর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো যেন তার আয়-ব্যয়ের বৈধতা যাচাই করে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে উত্থাপিত সব অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply