ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার দাদরা গ্রামে সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর অর্ধ-গলিত লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোহান মিয়া (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিবিআই ময়মনসিংহ সূত্র জানায়, গত ৩ জুলাই ২০২৫ তারিখ সকালে পরিত্যক্ত একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেলে থানা পুলিশ, র্যাব, সিআইডির পাশাপাশি পিবিআইও তদন্তে নামে। ছায়া তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত নারীর নাম সুফিয়া খাতুন (৩৪), পিতা কেরামত আলী, গ্রাম পাতিলগাঁও, থানা ফুলপুর, জেলা ময়মনসিংহ।
জানা যায়, গত ২৯ জুন সুফিয়া খাতুন ছাগল বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারে গিয়েছিলেন এবং এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, আসামি রোহান তার এক বন্ধুর কাছ থেকে সুফিয়ার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমের অভিনয় শুরু করে। ২৯ জুন বাজারে দেখা করে সুফিয়াকে কৌশলে দাদরা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক সম্পর্কের পর তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুফিয়া রোহানকে চড় মারলে রোহান ক্ষিপ্ত হয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশটি পাশের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পর রোহান ভিকটিমের মোবাইল ফোন ও নগদ ৪ হাজার টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
পিবিআই ৫ জুলাই গভীর রাতে ফুলপুর থানাধীন এলাকা থেকে রোহান মিয়াকে গ্রেফতার করে। তার দেখানো মতে নিহত নারীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ৬ জুলাই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হোক।
পিবিআই ময়মনসিংহ জানায়, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
Leave a Reply