ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লামাবায়েক এলাকায় এক নাটকীয় ঘটনায় দুই কেজি গাঁজাসহ আটক হওয়া এক আসামি জিম্মাদারের হাত থেকে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
লালপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ও মিজান মিয়া যৌথভাবে মনতাজ মিয়াকে ২ কেজি গাঁজাসহ আটক করেন। পরে বরব্রিজ এলাকায় তার চালানো রিকশাসহ আটক করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
এসময় মামুন মিয়ার ছেলে মনির ও সফর মিয়ার ছেলে লিমনের জিম্মায় আসামিকে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সিএনজি স্টেশনের কাছে পৌঁছালে আসামি হঠাৎ পালিয়ে যায়। মনির ও লিমনের দাবি তাদের হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায় মনতাজ।
পরে তার কাছ থেকে জব্দকৃত ২ কেজি গাঁজা ও রিকশাটি আশুগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে। ফলে তিন পক্ষই কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জিম্মাদারদের পুলিশ জবাবদিহিতায় না আনায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন অপরাধী পেলো ছাড়া, জিম্মাদার পেলো আর্থিক সুবিধা, আর পুলিশ পেলো গাঁজা ও রিকশা, যেহেতু আসামি নাই, সরকারিভাবে জব্দ তালিকারও প্রয়োজন পড়েনি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। অপরাধীকে পুলিশের কাছে সরাসরি হস্তান্তর না করে তিনি তৃতীয় পক্ষের জিম্মায় দিয়ে “শেয়ালের কাছে মুরগী বরগা দেওয়ার মতো কাজ” করেছেন। এ কারণে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে, সমালোচনার মুখে পড়ে অপরাধীকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে বাধ্য হয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন।
এমন নেক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউই দায় এড়াতে পারবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, এ ঘটনার পেছনের সব তথ্য ও গোপন চক্রের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা জরুরি।
Leave a Reply