খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্রদের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের অপসারণ দাবিতে চলমান আমরণ অনশন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই সংকট নিরসনে বুধবার সকালে কুয়েট ক্যাম্পাসে হাজির হন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সি আর আবরার।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যবিরোধী স্লোগানে প্রতিবাদ জানান। উপদেষ্টা সরাসরি অনশনরত শিক্ষার্থীদের সামনে বসে তাঁদের বক্তব্য শোনেন। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানান—ছয় দফা দাবি থেকে তারা এখন এক দফায় এসে দাঁড়িয়েছেন: উপাচার্যের পদত্যাগ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত দুই মাসে প্রশাসনের একগুঁয়ে অবস্থান, ছাত্রদের সঙ্গে কোনো ধরণের ফলপ্রসূ সংলাপ না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ব্যর্থতার জন্যই তাঁরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আন্দোলনকারীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন ফোনে। তবে সরেজমিনে এসে তিনি আন্দোলনের বাস্তব চিত্র দেখে উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া জানান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তৃতীয় দিনের মতো চলমান অনশনে ২৬ জন শিক্ষার্থী এখনো অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে অন্তত ৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা অনড়, যতক্ষণ না উপাচার্য অপসারণ হচ্ছেন, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তিন সদস্যের তদন্তদলও আজ কুয়েট পরিদর্শনে আসছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমাধানের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই এই দলের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরদিন ক্যাম্পাসে তালা দেওয়া হয়, বন্ধ হয়ে যায় একাডেমিক কার্যক্রম।
২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন আর শুধু দাবির প্রশ্ন নয়, এটি পরিণত হয়েছে নৈতিক অবস্থানের লড়াইয়ে। এই সংকটের সমাধানে প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর ফল আসবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রয়োজনে রিপোর্টের সাথে ছবি, শিক্ষার্থীদের বয়ান, বা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াও যুক্ত করা যেতে পারে। এগুলো চাইলে আমি আলাদাভাবে তৈরি করে দিতে পারি।
Leave a Reply