মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। একদিনেই গাজা, ইয়েমেন, লেবানন এবং সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ধারাবাহিক হামলায় বহু প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৫ মে) গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো হামলায় কমপক্ষে ৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সেখানকার হাসপাতালগুলো চরম সংকটে রয়েছে এবং বিদ্যমান জ্বালানি ও ওষুধের অভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে করে হাজার হাজার অসুস্থ ও আহত মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি অবরোধ ৬৫ দিনে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে খাদ্য, পানি, ওষুধ কিংবা কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানান, গাজায় নতুন করে স্থল অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে স্থানচ্যুত করা হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়াতেও ইসরায়েলের এই সর্বশেষ হামলায় সামরিক স্থাপনাসহ বেসামরিক এলাকাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে এই হামলাগুলোকে কেন্দ্র করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দিতে হবে।
Leave a Reply