গল্পের নাম: তোমাতে আমার বসন্ত
রৌদ্রঝলমলে এক বিকেলে, শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে ছোট্ট একটি ক্যাফেতে প্রথম দেখা হয়েছিল অরণ্য আর নীহারিকার। অরণ্য ছিল বইপাগল, নীহারিকা ভালোবাসত ছবি আঁকতে। দুজনের আলাপ শুরু হয়েছিল একটি বই নিয়ে—নীহারিকা ভুল করে অরণ্যের বইটি নিজের মনে করে নিয়ে গিয়েছিল।
“এইটা আমার বই,” অরণ্য হেসে বলেছিল।
নীহারিকা একটু লজ্জা পেয়ে মৃদু হেসেছিল, “ভুল করে নিয়েছি, মাফ করবেন।”
সেই ছোট্ট ভুল থেকেই শুরু হয় তাদের গল্প। দিনে দিনে আলাপ বাড়ে, গল্প জমে, এবং ধীরে ধীরে অদৃশ্য এক টান তৈরি হয়। অরণ্যের কথা শুনে নীহারিকার মন শান্তি পেত, আর নীহারিকার হাসিতে অরণ্য পেত জীবনের নতুন রঙ।
একদিন সন্ধ্যায়, বৃষ্টির ভেজা রাস্তায়, নীহারিকা ছাতা ছাড়া ভিজছিল। অরণ্য ছুটে গিয়ে তার ওপর ছাতা ধরেছিল। নীহারিকা তাকিয়ে ছিল অরণ্যের চোখে—সেই চোখে যে কথা ছিল, “আমি আছি, সবসময় তোমার পাশে।”
সেই মুহূর্তেই, দুজনের হৃদয় বুঝে গিয়েছিল—ভালোবাসা কখনো জোর করে হয় না, এটা হয়ে যায় নিঃশব্দে, নিঃশর্তে।
তারপর বহু দিন কেটে গেছে। অরণ্য আর নীহারিকা আজও সেই ক্যাফেতে বসে চা খায়, গল্প করে। সময় বদলেছে, কিন্তু তাদের ভালোবাসার গল্প ঠিক আগের মতোই সতেজ—ঠিক যেন প্রথম বসন্তের সকাল।
Leave a Reply