ময়মনসিংহে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর আনন্দ মোহন কলেজ-এর রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর চরে তার লাশ ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
শাওনের বাড়ি কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি বন্ধুর সঙ্গে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন নদীর তীরে ঘুরছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নদীর তীরে হাঁটার সময় কয়েকজন কিশোর তাদের ঘিরে ধরে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী দাবি করে। টাকা না থাকায় তাদের মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে পালানোর সময় শাওন নিখোঁজ হন। পরদিন নদীর কাছাকাছি তার ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালালেও তখন কোনো সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে শুক্রবার রাতে স্থানীয় নৌকার মাঝিরা নদীর চরে শাওনের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় শাওনের মা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাওনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা শহরের টাউন হল মোড়ে বিক্ষোভ করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি সাময়িকভাবে আটকে দেন তারা।
এ ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা ও নদীতীরবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
Leave a Reply