ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তে নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, পরিকল্পনাকারী এবং সহযোগীদের বিষয়ে নতুন তথ্য উঠে এসেছে, যা মামলার তদন্তকে নতুন দিকে নিয়ে গেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে এক অস্ত্র সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অস্ত্রটি কার মাধ্যমে এবং কীভাবে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছেছিল সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তে কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নাম তদন্ত নথিতে এসেছে বলে জানা যায়।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মামলাটির তদন্ত শেষে একটি অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষ আপত্তি জানালে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকেই সংস্থাটি নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা হয়। একইসঙ্গে অস্ত্রটির ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততার বিষয়েও নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ববর্তী তদন্তে যাদের নাম এসেছিল তাদের বাইরে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে মামলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থান করায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে ভারত থেকে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি ভারতের এক রাজনৈতিক নেত্রীর মন্তব্য ঘিরেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল মহল জানিয়েছে, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং বাইরের কোনো মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।এটি সম্পূর্ণ নতুন ভাষায় লেখা হয়েছে এবং মূল প্রতিবেদনের তথ্যভিত্তিক সারসংক্ষেপ ধরে সংবাদধর্মী আকারে সাজানো হয়েছে।
Leave a Reply