ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। আসন বণ্টন অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন।
এই মনোনয়নকে ঘিরে দলটির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা, লবিং ও নানা হিসাব-নিকাশ। দলটির অঙ্গসংগঠন মহিলা দলের পাশাপাশি এবার সাবেক ছাত্রদল নেত্রীদের নামও গুরুত্বসহকারে আলোচনায় আসছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পরিচিত ও ত্যাগী নেত্রীর নাম ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ আলোচনায় এগিয়ে থাকা অন্যতম নাম বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-পল্লবী এলাকার চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন্নেসা হক।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেহেরুন্নেসা হক স্থানীয় পর্যায়ে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে তিনি পল্লবী–মিরপুর অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে তিনি সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা ও প্রশাসনিক চাপ সত্ত্বেও তিনি দলীয় আদর্শে অটল থেকে রাজপথে সরব উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বের জন্য একজন যোগ্য ও সময়োপযোগী প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।
জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ৩৮টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং ৭০ বছর বয়সেও তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তার পরিবারও বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
বিশেষ করে তার বড় ছেলে, জাতীয় পর্যায়ের যুবনেতা নয়ন বাঙ্গালী, দলীয় কর্মসূচি শেষে বাসায় ফেরার পথে মৎস্য ভবনের সামনে প্রকাশ্যে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
সবমিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে যে প্রতিযোগিতা ও আলোচনা চলছে, সেখানে বেগম মেহেরুন্নেসা হক একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
Leave a Reply