যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ময়মনসিংহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারী জামাল সরকার তার আবেদনে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মোঃ হারুন-অর-রশিদ কর্মকালীন সময়ে অফিসে অশোভন আচরণ করেন এবং নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে অফিসে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন, যা সহকর্মীদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার স্ত্রী কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন এবং বদলির ভয় দেখিয়ে তাদের দিয়ে বাসার কাজ করান। এছাড়া সরকারি জীপ গাড়ি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, চালকদের উপর চাপ প্রয়োগ এবং বদলির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি গাড়ি তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত ব্যবহার করেন, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। গাড়ির বিকল্প চাবি তৈরি করে অপব্যবহারের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক চালককে চাবি না দেওয়ার কারণে দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষক দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণ কোর্সে অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের নামেও ভাতা উত্তোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ডাটাবেজ, বিউটি পার্লার, হস্তশিল্প ও ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। প্রতি ক্লাসে নির্ধারিত ১০০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা গ্রহণ করলেও কাগজে ১০০০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার অসামঞ্জস্য রয়েছে। মাসিক বেতনের তুলনায় উচ্চ ব্যয়ের জীবনযাপন এবং বিপুল পরিমাণ জিপিএফ জমার বিষয়টি সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের অফিস ভাড়া সংক্রান্ত অনিয়ম, পূর্ববর্তী কর্মস্থল শেরপুর ও নেত্রকোনায় ভুয়া প্রশিক্ষণ ও অর্থ আত্মসাত, যানবাহন প্রকল্পে অনিয়মসহ একাধিক দুর্নীতির চিত্র অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে পুকুর সংস্কার কাজে অনিয়ম এবং দুদকের তদন্ত প্রতিহতের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া, নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে পদোন্নতি গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত চাকরিকাল পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে পদোন্নতি গ্রহণ করেছেন, যা বাতিলযোগ্য। অভিযোগকারী দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি।
সবশেষে, অভিযোগকারী নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply