রাজধানীর মিরপুর বড়বাগ এলাকায় নিয়মিত ময়লা অপসারণে নিয়োজিত একটি বেসরকারি উদ্যোগকে মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে ২ দিন দেরি হওয়ায়, এলাকায় ময়লা সরানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় চরম অস্বস্তি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের প্রভাবশালী নেতা শাকিল মোল্লা ও তার সমর্থিত ‘সম্রাট গ্রুপ’, এবং ছাত্রদল নেতা হিরু হাসান ও তার অনুসারী লোকজন পরিকল্পিতভাবে এ কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরেই বড়বাগ এলাকার ময়লা ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত দলটি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে আসছিল। তবে জুলাই মাসে নির্ধারিত চাঁদা দিতে মাত্র দুইদিন দেরি হওয়ায়, ময়লা সরানোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা চাঁদাবাজির চরম উদাহরণ। পুরো এলাকা এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে থাকা যাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে বাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত রাজনৈতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদার নামে অবৈধ অর্থ আদায় করে আসছেন। অথচ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এসব দেখেও নিশ্চুপ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওয়ার্ড কর্মকর্তার ভাষ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজনীতির প্রভাব বহু পুরনো। কিন্তু কেউ যদি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে অস্ত্র করে চাঁদা আদায় করে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।
বড়বাগ এলাকার কয়েকটি নাগরিক সংগঠন ও সচেতন মহল বিষয়টির প্রতিবাদে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সচেতন নাগরিক সুমাইয়া রাহমান বলেন, এটা শুধু চাঁদাবাজি নয়, এটা জনস্বাস্থ্য ও নগর জীবনের বিরুদ্ধে এক ধরণের সন্ত্রাস। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এ অবস্থার উন্নতি হবে না।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত যুবদল নেতা শাকিল মোল্লা ও ছাত্রদল নেতা হিরু হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তারা পুলিশের সহযোগিতা চাইবেন এবং প্রয়োজনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে বিষয়টি মেয়র ও নগর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনবেন।
Leave a Reply