রাজধানীর মিরপুর-পল্লবী এলাকার অপরাধ জগতের এক নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘সুমন’ ও তার অনুসারী কিশোর গ্যাং। কালশী বালুর মাঠ থেকে শুরু করে পল্লবীর অলিগলি সবখানেই বিস্তৃত তার অপরাধের জাল। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে দিনের দুপুরে সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে জখম করা যেন এই গ্যাংয়ের কাছে মামুলি ব্যাপার। সম্প্রতি এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সুমন স্থানীয়দের হাতে নাতে ধরা পড়লেও ‘রাজনৈতিক বড় ভাইদের’ হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যাওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এক ডজন কিশোর অপরাধী। যাদের মূল কাজ হচ্ছে চলন্ত বাস থেকে যাত্রীদের মোবাইল বা গলার চেইন হ্যাঁচকা টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া। বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতেও দ্বিধা করে না তারা। শুধু রাস্তাঘাটেই নয়, সুমনের এই বাহিনী মাঝেমধ্যেই এলাকার সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কালশী বালুর মাঠ এলাকায় সুমনের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করা হয়। ছিনতাইয়ের সময় কেউ যদি টাকা বা মোবাইল দিতে অস্বীকার করে, তবে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “সুমন ও তার দলের কাছে ধারালো অস্ত্র সবসময়ই থাকে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কারণ প্রতিবাদ করলেই বাড়িতে হামলা হবে নয়তো রাস্তায় একা পেলে কোপানো হবে।
গত দুই দিন আগে পল্লবী এলাকায় ছিনতাই করার সময় সুমনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা। গণধোলাই দেওয়ার পর তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চললেও ঘটনাস্থলে হাজির হন এলাকার কিছু বড় ভাই তথাকথিত ‘পাতি নেতা’। যাদের ছত্রছায়ায় থেকে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এসব সন্ত্রাসীরা। তাদের প্রভাব ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সুমনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় স্থানীয়রা। অপরাধীর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি পল্লবীর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অনিরাপত্তার জন্ম দিয়েছে।
পল্লবী ও কালশী এলাকার বাসিন্দারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশি টহল থাকলেও সুমন ও তার কিশোর গ্যাং কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে সুমনসহ এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে পল্লবী থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply