শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
মিরপুরে গোপনে গড়ে ওঠা ‘মোল্লা সাম্রাজ্য’, আড়ালে থাকেন উপসচিব ‘আবু সাঈদ’ মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ পেল রূপনগর-পল্লবীর ৫০০ পরিবার পল্লবীতে বাড়ি দখলচেষ্টা, হামলার পর বৃদ্ধার মৃত্যু; মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে পল্লবীতে ঘর দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, আহত মায়ের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ‎ পল্লবীতে শিশু হত্যার ঘটনা: ঘটনাস্থলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ময়মনসিংহে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার: ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার-৩ রূপনগরে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচনায় মাদবর পরিবার পল্লবীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে দম্পতির ওপর হামলা: ফের আলোচনায় মাদক সম্রাজী শাহীনুর ‎ ‎ মাহিন্দ্র গাড়িচালককে মারধর, তেল-ব্যাটারি ও চাকা চুরির দায়ে থানায় অভিযোগ

মিরপুরে গোপনে গড়ে ওঠা ‘মোল্লা সাম্রাজ্য’, আড়ালে থাকেন উপসচিব ‘আবু সাঈদ’

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬


‎রাজধানীর মিরপুরে রাজউকের নকশা জালিয়াতি, অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ, আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লার বিরুদ্ধে।

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপুরের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশনজুড়ে তার নামে-বেনামে একাধিক বহুতল ভবন, মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স, গুদামঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থাপনার বেশিরভাগই আবাসিক অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে সেগুলো অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

‎এছাড়া অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, পার্কিং স্পেস দখল করে দোকান ও অফিস তৈরি এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে ভবন পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে ভয়াবহ অনিয়ম জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে আবু সাঈদ মোল্লার নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি ভবনে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

‎প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, বেইজমেন্টে ঝুঁকিপূর্ণ জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন, ফায়ার সেফটি ছাড়াই রেস্টুরেন্ট, ক্লাব ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ রাখা, রাজউকের বাধ্যতামূলক অকুপেন্সি সনদ ছাড়া ভবন ব্যবহার, ভবনের নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত ‘ম্যানেজ’ হওয়ার কারণেই এসব অবৈধ কার্যক্রম বছরের পর বছর চলেছে বলে দাবি তাদের।

‎রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে ওঠে ‘মোল্লা সাম্রাজ্য’ এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মিরপুর এলাকায় গড়ে তোলা হয় বিশাল এক ‘মোল্লা সাম্রাজ্য’। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ভবন ও মার্কেট থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। তবে এসব সম্পদের বড় অংশই তার নিজের নামে নয়; বরং আত্মীয়স্বজন, ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ মোল্লা খুব কমই সরাসরি মানুষের সামনে আসেন। অধিকাংশ সময় তার হয়ে কথা বলেন ম্যানেজার, ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিংবা ভাগনে-ভাতিজারা। স্থানীয়দের দাবি, নিজের বিশাল প্রভাব বলয় থাকা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন। এমনকি তার নিজ বংশের অনেক মানুষও সহজে তার সাক্ষাৎ পান না।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন,
‎“সাধারণ মানুষ যদি তাকে ভালোভাবে চিনে ফেলে, তাহলে তার অবৈধ সাম্রাজ্যের নানা তথ্য সামনে চলে আসতে পারে। এ কারণেই হয়তো তিনি সবসময় নিজেকে আড়ালে রাখেন।
‎আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তার নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু ভবনে প্রশাসনের নির্দিষ্ট মহলের ‘ছত্রচ্ছায়া’ থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ করলেও পরে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

‎রাজধানীর বাইরে মানিকগঞ্জেও বিপুল সম্পদের অভিযোগ শুধু রাজধানীতেই নয়, মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও আবু সাঈদ মোল্লার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, গুদামঘর, মাছের খামার ও অন্যান্য ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি অস্বাভাবিক গতিতে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন।

‎তবে তার ঘোষিত আয় ও দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।। ‎স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রাজউকের নকশা জালিয়াতি, অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তাহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

‎তাদের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন এসব অভিযোগ চাপা থাকলেও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে মিরপুরে গড়ে ওঠা কথিত ‘মোল্লা সাম্রাজ্যের’ প্রকৃত চিত্র সামনে

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com