পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মর্তুজা হোসাইনের উপর অতর্কিত হামলা, মারধর করে রক্ত জখম ও তার ব্যবহারিত মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে মর্তুজা হোসাইন তার কার্যালয় থেকে নিজ মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফেরার পথে মঠবাড়িয়া পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করা মাত্রই পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা পৌর যুবদল কর্মী বেল্লাল ও হিরু হাং’র নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্যাং তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে হকিস্টিক ও হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত পেটাতে থাকে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। সাংবাদিক মর্তুজা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়া শাখা ও কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস (সিআরবি) মঠবাড়িয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন এবং ঢাকা এক্সপ্রেস এর উপজেলা প্রতিনিধি।
এছাড়াও তিনি পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। বেল্লাল, মঠবাড়িয়া পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য ও পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র। হিরু হাং যুবদল কর্মী ও উপজেলার আলগি পাতাকাটা গ্রামের মৃত আ. গনী হাং এর পুত্র। মারধরের এক পর্যায়ে মর্তুজার ডাক চিংকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে নিস্তেজ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তিনি বর্তমানে ওখানেই চিকিৎসারতে আছেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি মর্তুজা হোসাইনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে এতে ঘটনার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা করা হলে ওই মামলার তদন্ত চার্জশিটে ঘটনা প্রমাণিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে বলেই ধারনা করা হচ্ছে।
মর্তুজা হোসাইন বলেন- আমার হোটেলে মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির ঘটনায় বেল্লালদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিগত ৪-৫ মাস যাবত আমাকে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করা আছে। বৃহস্পতিবার রাতে আমি আমার কার্যালয় হতে বাসায় ফেরার পথে মহিলা কলেজের পেছনে গেলে ওরা আমাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে হাতুড়ি ও হকিস্টিক দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে সারা শরীরে গুরুতর জখম করে।
মর্তুজা হোসাইনের স্ত্রী শামসুন্নাহার বলেন- আমার স্বামী একজন সংবাদ ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাস গ্যাং দ্বারা নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি এনএসআই কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি মঠবাড়িয়া সরকারি হাসপাতাল হতে রেফার্ড হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরই বাংলা বাংলা মেডিকেলে ভর্তি আছেন। অথচ আমরা থানায় এ বিষয়ে মামলার জন্য গেলে থানা মামলা গ্রহণ করেননি। বরং ওই সন্ত্রাসী গ্রুপটি গ্রামের একটি নিরীহ পরিবারকে হয়রানি পূর্বক ভুল বুঝিয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কারসাজি পূর্ণ মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মিথ্যা মামলার বাদী আমাদের ডেকে ‘তাকে ভুল বুঝিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে’ মর্মে ইতিমধ্যেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, সে সমস্ত স্বীকারোক্তির ভিডিও ফুটেজ আমরা দুদিন আগেই মঠবাড়িয়া থানার ওসির কাছে পাঠিয়েছি। ওই মিথ্যা মামলার বাদী কামাল ইতিপূর্বেই উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আ. হালিম কর্তৃক মঠবাড়িয়া থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলার এজাহার ভুক্ত অন্যতম আসামী। আইনকে বোকা বানিয়ে প্রতিপক্ষ তবুও কামালকে দিয়ে মিথ্যে মামলা দায়ের করতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, মর্তুজার হোসাইন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসা শেষ হবার পর এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম করা হবে।
Leave a Reply