ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার বার্তা দিয়ে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিন শুরু করলেন নতুন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বুধবার সকাল ঠিক ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়-এ অবস্থিত ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-এর নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মদিবস শুরু করেন তিনি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রথম কর্মদিবসেই প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাজেট বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, জাতীয় দলের প্রস্তুতি, বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কেও ধারণা নেন।
প্রাথমিক বৈঠকে নতুন প্রতিমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিস্তৃতি ঘটানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিত্যক্ত মাঠ সংস্কার, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স উন্নত করতে হবে। ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি জোরদার, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কোচিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নারী ক্রীড়ার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রতিভা গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামাঞ্চল থেকে মেধাবী নারী খেলোয়াড় খুঁজে বের করে নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপরও জোর দেন তিনি।
প্রথম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাস্তব চিত্র জানার জন্য সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত পরিবর্তন আনা হবে।
দিনশেষে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নতুন প্রতিমন্ত্রীর সক্রিয় নেতৃত্বে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ও উদ্যম সৃষ্টি হতে পারে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করায় ক্রীড়া অঙ্গনে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশের ক্রীড়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply