বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে তৎপরতা: আলোচনায় মেহেরুন্নেসা হক সাংবাদিক ‘রিয়াদুল মামুন সোহাগ’র জন্মদিন ভোলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিকের পরিবারের ওপর ফের হামলার অভিযোগ নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা না আত্মহত্যা-রহস্যে ঘেরা মৃত্যু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুনের বিরুদ্ধে অনিয়মের যতসব অভিযোগ কিবরিয়া হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য ও চাঁদাবাজি গাজীপুরে কিশোরকে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাই: কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় সাংবাদিকের উপর অতর্কিত হামলা, জখম ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর খুনির সহযোগীর বক্তব্য আমরা শুনি না : জামায়াত আমির দ্বিতীয় দিনের মতো কমলো স্বর্ণের দাম

থানা সংলগ্ন থেকেও অধরা মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী ও তার পরিবার

এস এম জীবন, ঢাকা
  • আপডেটের সময়: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫


‎এক মাদক চক্রের দাপটে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিত শাহাজাদী এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভাই বট আসলাম, মনু ও সনু এবং পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্যরা হলেন- শাহাজাদীর বোন বেলি, কলি, কাজল ও গোলাপ, মেয়ে মুসকান এরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না, বরং নানা কারণে তাদের কার্যক্রম দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পল্লবী ও আশপাশের এলাকাজুড়ে শাহাজাদী পরিবারের মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। শুধু গাঁজা নয়, ইয়াবা, হেরোইন ও বিভিন্ন ট্যাবলেট জাতীয় মাদক পাইকারি ক্রয়-বিক্রয় এবং মাদকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে এই পরিবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভোর থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত অলিতে-গলিতে ছেলেপেলেরা এসে ‘জিনিস’ নিয়ে যায়।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লবীর মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রণ এখন শাহাজাদীর হাতে। তার অবৈধ ব্যবসায় তাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন তার একমাত্র মেয়ে মুসকান, স্বামী- রনি,  ছোট বোন বেলি, কলি, কাজল ও গোলাপ।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাহাজাদীর বড় ভাই বট আসলাম তার পরিবার বেগুনটিলা আবাসন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। মনু ও সনু এদের দায়িত্ব এলাকাভিত্তিক ডেলিভারি এবং স্থানীয় যুবকদের মাদক ব্যবসায় টেনে আনা। একাধিক অভিযোগ রয়েছে যে, এই পরিবারটির ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে নতুন এক “ডিলার নেটওয়ার্ক”। এতে সহযোগিতা করছেন ধ-ব্লকের সন্ত্রাস মুক্তার হোসেন। বর্তমানে সে মুক্তার  একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখল নিয়ে পল্লবী থানা সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা এলকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

‎পল্লবীর বাসিন্দারা বলছেন, এই পরিবারটির বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের একাংশ জানলেও ‘উর্ধ্বতন চাপ’ কিংবা ‘পিছনে প্রভাবশালী মহলের ছায়া’ থাকায় বড় কোনো অভিযান হয় না। মাঝে মাঝে ‘আই শো’ হিসেবে অভিযান চালানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে দেখা যায়নি।

‎এই মাদক সিন্ডিকেটের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে এর সামাজিক প্রভাব। মাদকের ছোবলে বিপথগামী হচ্ছে এলাকার তরুণ সমাজ। শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এমনকি কিশোররাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকায় কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে এই চক্রকে ঘিরে।

‎জনগণের দাবি “মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। স্থানীয় সুশীল সমাজ, শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, এখনই এই চক্র ভাঙা না গেলে আগামীতে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ ধ্বংস করে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি “মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন।

‎”মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়, তবে আজকের বাস্তবতা হলো- এই পরিবারটির দখলে থাকা মাদক সাম্রাজ্য প্রতিদিনই পল্লবী এলাকাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব এখন স্পষ্ট নিরপেক্ষ ও জিরো টলারেন্স নীতিতে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

পল্লবী থানার ওসি মো. সফিউল আলম বলেন, মাদকের সাথে জড়িত এমন কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে।

চলবে……

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com