গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ধীতপুর এলাকায় এক কিশোরকে নির্মমভাবে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মিলন দীর্ঘদিন ধরে ধীতপুর এলাকার নদীর ঘাটে জনৈক শাহ আলমের ফুচকা ও চটপটির দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিল।
একই এলাকায় অবস্থানরত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার প্রতি পূর্ব থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল এবং তাকে কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। অভিযুক্তরা হলেন- আসিফ (২৩), জাহিদ (২৪), জীবন (২৬) ও হৃদয় (১৯)।
এছাড়াও তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সকলের বাড়ি গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন বীতপুর এলাকায়।
ভুক্তভোগীর পিতা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক সারে পাঁচটার দিকে তার ছেলে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় উল্লিখিত আসামিরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে। তাদের হাতে লোহার রড, চাপাতি ও অন্যান্য অস্ত্র ছিল। পরে তারা জোরপূর্বক মিলনকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের নদীর তীরে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে গিয়ে আসামিরা মিলনের উপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি মোঃ আসিফ তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ডিলনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে মিলন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে পানির মধ্যে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তার গলায় দড়ি বেঁধে কাদামাটির মধ্যে টেনে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে মিলন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামিরা তার কাছে থাকা নগদ বারো হাজার টাকা এবং একটি আইটেল ভিশন মডেলের স্মার্টফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। লোকজন চলে আসলে অপরাধীরা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন মিলনকে উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পরপরই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হয় এবং পরবর্তীতে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ধীতপুর ও আশপাশ এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয়দের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাছা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply