ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার উজান কাশিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনের ছাঁদ ঢালাই কাজে মারাত্মক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়বাসীর দাবি, কোনো তদারকি ছাড়া নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কার্যসহকারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ছাঁদ ঢালাই কাজটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর আওতাধীন হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি শিক্ষা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা প্রকৌশলী বা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার চুখে ধুলো ছিটিয়ে এলজিইডির কার্যসহকারী খাইরুল আলম সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পরিচালনা করছেন।
প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া পারভিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান হিসাবে আমাকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি, কাজ শুরু থেকেই এটি অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে।
স্থানীয় রফিক বলেন, “আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছি। নিম্নমানের পাথর, মাটি মিশ্রিত বালু আর নিম্নমানের রড দিয়ে কাজ করা যাবে না। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি, বরং আমাদেরকে হুমকি দিয়ে বলা হয়—চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ২২জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণস্থলে নেই কোনো সাইনবোর্ড, নেই কোনো প্রকৌশলীর উপস্থিতি। গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে চিকন সাদা ও লাল বালু, নিম্নমানের পাথর—যা ভবনের স্থায়িত্ব ও টেকসই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে গেলে কার্যসহকারী খাইরুল আলম ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি ইসহাকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকদের প্রতি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা চালায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে ব্যস্ত আছি, পরে কথা বললো।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সঠিকভাবে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চলবে…..
Leave a Reply