বিশ্বখ্যাত ‘টপ গান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর আইকনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৪ টমক্যাট বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে কেবল ইরানই ব্যবহার করছে।
গ্রুমম্যান এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের তৈরি এই সুপারসনিক এবং পরিবর্তনযোগ্য ডানাবিশিষ্ট শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি একসময় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর প্রধান শক্তি ছিল।
১৯৭০-এর দশকে ইরান যখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অন্যতম প্রধান মিত্র ছিল, তখন তৎকালীন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর শাসনামলে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে দেশটিকে ৭৯টি এফ-১৪ বিমান সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে দুই দেশের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
কয়েক দশক ধরে যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটে থাকা ইরান তাদের এই মূল্যবান বহর সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে তারা ‘ক্যানিবলাইজেশন’ বা একটি বিমানের যন্ত্রাংশ খুলে অন্য বিমানে লাগানোর পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যাতে অন্তত কিছু বিমান আকাশে ওড়ার উপযোগী রাখা যায়।
নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইরান স্থানীয়ভাবে এই বিমানের কিছু যন্ত্রাংশ রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করার চেষ্টা করেছে, যদিও তার সফলতা ছিল সীমিত। মার্কিন নৌবাহিনী দীর্ঘ সময় আগেই এই যুদ্ধবিমানটিকে অবসরে পাঠিয়েছে। বিশেষ করে এর শক্তিশালী রাডার এবং এআইএম-৫৪ ফিনিক্স মিসাইল বহনের ক্ষমতার জন্য এটি সমাদৃত ছিল।
বর্তমানে ইরানি বিমানবাহিনীতে ঠিক কতটি এফ-১৪ সক্রিয় আছে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো এখন তাদের পূর্বের শক্তির ছায়ামাত্র। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর জন্য এই পুরোনো বিমানগুলো এখন আর বড় কোনো হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয় না।
ঐতিহাসিকভাবে এফ-১৪ টমক্যাট আকাশযুদ্ধে বেশ সফল ছিল। ১৯৮৯ সালের ৪ জানুয়ারি লিবিয়া উপকূলের কাছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জন এফ কেনেডি থেকে উড্ডয়ন করা দুটি এফ-১৪ যুদ্ধবিমান লিবীয় বাহিনীর দুটি মিগ-২৩ বিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল।
একসময় মার্কিন রণতরীগুলোকে শত্রুপক্ষের বোমারু বিমান থেকে রক্ষা করাই ছিল এই বিমানের প্রধান কাজ। যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই এই প্রযুক্তি ত্যাগ করলেও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং বিকল্পের অভাবে ইরান আজও এই ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমানটিকে কোনোভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
Leave a Reply