বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
পল্লবীতে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার বানারীপাড়ায় রাজু’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীকর্মকান্ডের অভিযোগ, হামলার শিকার বাবা-ছেলে রূপনগরে ওপেন হাউস ডে: অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার ডাক মিরপুর প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান অসুস্থ: দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ বিআরটিএ কর্মকর্তা ‘রাশেদ মিলন’র বিরুদ্ধে ৩৩নং ওয়ার্ডে আব্দুর রহমানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিতদের অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ শেরপুরে সরকারি রেস্ট হাউস দখলে উপপরিচালক, ভাড়া ভাতা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে তৎপরতা: আলোচনায় মেহেরুন্নেসা হক সাংবাদিক ‘রিয়াদুল মামুন সোহাগ’র জন্মদিন ভোলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিকের পরিবারের ওপর ফের হামলার অভিযোগ

‎ল্যাংড়া রুবেলের মাদক সিন্ডিকেট এখন ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ শাহাজাদীর নিয়ন্ত্রণে

এস এম জীবন, ঢাকা
  • আপডেটের সময়: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫

রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এক মাদক সাম্রাজ্য এখন নতুন নেতৃত্বে। এক সময় ভয়ংকর ‘ল্যাংড়া রুবেল’ নামে পরিচিত একজনের নেতৃত্বে পরিচালিত ইয়াবা ব্যবসা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছেন আলোচিত ‘মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী। স্থানীয় সূত্র ও গোপন অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

‎পল্লবীর এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও সরবরাহের নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে রেখেছে। ল্যাংড়া রুবেলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৯ জুন পেপার সানি নামের এক যুবককে দাওয়াত খাওয়ার নামে বাসা থেকে ডেকে আনে এবং পরের দিন মিল্লাতক্যাম্প সংলগ্ন একটি স্থান থেকে হাতের পিছন থেকে হাতকড়া পড়া, দু’পা গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় সানির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এবিষয়ে ল্যাংড়া রুবেলকে প্রধান আসামি করে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তারপরও মাদক সাম্রাজ্যের মূল স্রোত থামছে না।

‎বর্তমানে ল্যাংড়া রুবেলের অনুপস্থিতিতে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন শাহাজাদী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন রুবেলের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম। শাহাজাদী নিজেই এলাকায় মাদক বণ্টন, চাঁদা আদায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাও আবার পল্লবী থানার সন্নিকটে। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই “মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারের এমন রমরমা মাদক ব্যবসা পরিচালনায় হতবাক এলাকাবাসী।

এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় তাদের সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে থাকেন, রাস্তায় চলতে ও প্রতিবাদ করতেও ভয় পাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাসিন্দা জানান, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীতে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এমনকি সেনাবাহিনীর অফিসারদের শাহাজাদীর বাসায় যাতায়াত করতে দেখা যায়। তারা প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে টাকা নিতে আসে। তাই আমরা কিছু বলতেও পারি না, ভয় পাই।

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ:
‎অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে গুন্ডাবাহিনী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির ছত্রছায়া। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং ‘দুই-একটি অভিযান দেখানো’র চেয়ে বাস্তবিক কোনো বড় ধরনের পদক্ষেপের অনুপস্থিতি সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

‎চাহিদা তদন্ত ও অভিযান জোরদার:
‎স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই সিন্ডিকেট শুধু পল্লবীর জন্যই নয়, গোটা মিরপুরের তরুণ প্রজন্মের জন্য হুমকি। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পল্লবীবাসী:

‎এক মাদক চক্রের দাপটে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিত শাহাজাদী এবং তার পরিবারের সদস্যরা—ভাই বট আসলাম, মনু ও সনু এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না, বরং নানা কারণে তাদের কার্যক্রম দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পল্লবী ও আশপাশের এলাকাজুড়ে শাহাজাদী পরিবারের মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। শুধু গাঁজা নয়, ইয়াবা, হেরোইন ও বিভিন্ন ট্যাবলেট জাতীয় মাদক পাইকারি ক্ত্য়-বিক্রয় এবং মাদকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে এই পরিবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ভোর থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত অলিতে-গলিতে ছেলেপেলেরা এসে ‘জিনিস’ নিয়ে যায়।

শাহাজাদী: মূল নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। একসময় রুবেল নামে এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী থাকলেও এখন পুরো সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে একাই।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাহাজাদীর বড় ভাই বট আসলাম প্রকাশ্যে মাদক সরবরাহ ও চাঁদা আদায়ে জড়িত। মনু ও সনু: এদের দায়িত্ব এলাকাভিত্তিক ডেলিভারি এবং স্থানীয় যুবকদের মাদক ব্যবসায় টেনে আনা। একাধিক অভিযোগ রয়েছে যে, এই পরিবারটির ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে নতুন এক “ডিলার নেটওয়ার্ক” যারা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের টার্গেট করে।

পল্লবীর বাসিন্দারা বলছেন, এই পরিবারটির বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের একাংশ জানলেও ‘উর্ধ্বতন চাপ’ কিংবা ‘পিছনে প্রভাবশালী মহলের ছায়া’ থাকায় বড় কোনো অভিযান হয় না। মাঝে মাঝে ‘আই শো’ হিসেবে অভিযান চালানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে দেখা যায়নি।

‎এই মাদক সিন্ডিকেটের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে এর সামাজিক প্রভাব। মাদকের ছোবলে বিপথগামী হচ্ছে এলাকার তরুণ সমাজ। শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এমনকি কিশোররাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকায় কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে এই চক্রকে ঘিরে।

‎জনগণের দাবি “মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। স্থানীয় সুশীল সমাজ, শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, এখনই এই চক্র ভাঙা না গেলে আগামীতে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ ধ্বংস করে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি “মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন।

‎”মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী” ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়, তবে আজকের বাস্তবতা হলো- এই পরিবারটির দখলে থাকা মাদক সাম্রাজ্য প্রতিদিনই পল্লবী এলাকাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব এখন স্পষ্ট নিরপেক্ষ ও জিরো টলারেন্স নীতিতে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

‎পল্লবীর মাদকের জাল এতটাই বিস্তৃত যে, এতে শুধু একজন ল্যাংড়া রুবেল বা একজন “মাদক সম্রাজ্ঞী শাহাজাদী”র নাম আসছে না, বরং পুরো একটি নেটওয়ার্কের কথা উঠে আসছে। সময় এসেছে, এই সিন্ডিকেট ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করার।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com