সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার: ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার-৩ রূপনগরে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচনায় মাদবর পরিবার পল্লবীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে দম্পতির ওপর হামলা: ফের আলোচনায় মাদক সম্রাজী শাহীনুর ‎ ‎ মাহিন্দ্র গাড়িচালককে মারধর, তেল-ব্যাটারি ও চাকা চুরির দায়ে থানায় অভিযোগ পল্লবী থানা উত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত দুই অবুঝ শিশুর চোখের জল আর স্ত্রীর হাহাকার: শাহাদাত হত্যার বিচারের অপেক্ষায় একটি পরিবার হামলা-লুটপাটে জড়িত চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ পল্লবীতে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার বানারীপাড়ায় রাজু’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীকর্মকান্ডের অভিযোগ, হামলার শিকার বাবা-ছেলে রূপনগরে ওপেন হাউস ডে: অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার ডাক

মিরপুরের ভূমিদস্যু, প্রতারক, চাঁদাবাজ ও খুনের মামলার আসামি আমির-জহিরের দৌরাত্ম্য

এস এম জীবন, ঢাকা
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ঢাকা-১৬ আসনের স্বৈরাচারের সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর পালিত চাঁদাবাজ ও ভুমিদস্যু আমির ওরফ মাখন ও মো: জহিরুল ইসলাম ওরফে এস এম জহিরুল ইসলাম (সোর্স ও পিয়ন জহির) নামে পরিচিত এখন ঢাকা-১৬ আসনর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠ জন।

‎ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হকের ছত্রছায়ায় থেকে আমির ও জহির পল্লবীতে মানুষ হত্যা ও চাঁদাবাজির নীল নকশা লিপ্ত হয়েছেন। তার প্রমান স্বরুপ পল্লবীর ইমরান খান নামে এক স্থানীয় সাংবাদিককে হত্যার নীল নকশা করে, পরবর্তিত ওই সাংবাদিক তার নিজস্ব ফেসবুকে আমির ও জহিরের নীল নকশার কাহিনী তুলে ধরেন।

‎বর্তমান মিরপুর-১২ নম্বার বি- ব্লকর, ৯/৩ নং রোডের ১৫২/১৬ নং বাড়িটি সরস কুমার নামের এক হিদু লোকের, ২০১৬ সাল থেকে ঐ বাড়িটি দখল করে চাঁদাবাজির অফিস খুলে বসে আছ। এসব ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ওই হিন্দু লোকটি প্রাণেরভয়ে পালিয় বেড়াচ্ছে। এছাড়াও নান্নু মার্কেটের পাশে ৫ কাঠার আরও একটি বাড়ি দখল করে সেই বাড়িটি ২০২৪ সালের জুন মাসে বিক্রয় করে দেয়। বিক্রয়ের টাকা কিছু সন্ত্রাসীসহ স্থানীয় এমপির মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়।

‎কয়েক বছর আগে স্থানীয় এলাকাবাসী আমিরের দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার ফাঁসির দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার লাগিয়ে ছিলেন। এলাকাবাসীর ধারণা, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে এ-পর্যন্ত পল্লবীতে যত গুলাগুলি, খুন খারাবিসহ অপরাধ কর্মকান্ড গঠিত হয়েছে, এসব কিছুর পিছনে এরা দুজনের যোগসূত্র থাকতে পারে। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান তারা।

‎২০২১ সালে পল্লবীতে সন্তানের সামনে প্রকাশ্যে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা শিরোনামে প্রকাশিত খবরের আলোচিত সাহিনুদ্দিন হত্যার মাষ্টার মাইন্ড ছিলেন মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে এস এম জহির।  মামলার বাদী নিহত সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগম বারবার পুলিশ এবং মিডিয়াকে জানিয়েছেন এই হত্যাকান্ডের সাথে জহিরের সংশ্লিষ্ট থাকার কথা। কোন এক অদৃশ্য শক্তিতে মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জহিরের নাম বাদ পড়ায়, না রাজি দিয়ে পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী নিহতের মা আকলিমা বেগম।

‎আকলিমা বেগম জানান, মামলায় প্রধান আসামি এম এ আওয়ালের সঙ্গে আমার ছেলের জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। পারিবারিকভাবে আত্মীয় হওয়ায় আমার পরিবারের সাথে জহিরের পরিবারের বিরোধ লেগেই থাকতো। আওয়ালের সাথে জহিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায়, নিজের বোনকে দিয়ে আমাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য আওয়ালের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে জহির আমার ছোট ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বাকি আসামিরা সবাই ছিলো আওয়াল ও জহিরের ভাড়াটিয়া খুনি। সম্পত্তির জন্য এখনো আমার বড় ছেলে মাঈনুদ্দিনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েই যাচ্ছে।

‎আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁদাবাজির অভিযোগে জহিরের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় দুইটি মামলা হলেও পরে মুসলেকা দিয়ে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে। ৫ই আগস্টের পর মিরপুর দুই নাম্বার লাভ রোডে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ছাত্রজনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন  জহিরসহ আরও তিন সাংবাদিক। পরবর্তিতে আমিনুল হকের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে এবং সফলও হয়। তারপর থেকে আমিনুল হকের ছবি ব্যবহার করে ও দলীয় পরিচয়ে এলাকাতে আবারও চাঁদাবাজি ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হত্যাকান্ডের নীল নকশা করে।

‎কয়েক বছর আগে স্থানীয় এলাকাবাসী আমিরের দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার ফাঁসির দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার লাগিয়ে ছিলেন। এলাকাবাসীর ধারণা, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে এ-পর্যন্ত পল্লবীতে যত গুলাগুলি, খুন খারাবিসহ অপরাধ কর্মকান্ড গঠিত হয়েছে, এসব কিছুর পিছনে এরা দুজনের যোগসূত্র থাকতে পারে। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান তারা।

‎এবার নিজেদের নির্দোষ রাখতে তারা দুই জন বর্তমানে মিরপুর প্রেস ক্লাব-৪-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে থাকে। মিরপুর প্রেস ক্লাবের কথিত সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির এবং কথিত সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, যিনি এস এম জহির ওরফে ‘সোর্স জহির’ নামেও পরিচিত।

‎স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করতে পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় বসবাসরত কিছু সাংবাদিককে প্রতিদিন অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ কাজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন আমির ও জহির। অভিযোগ অনুযায়ী, আমিনুল হকের পক্ষ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সবাই সেই অর্থ পান না।

‎অভিযোগে বলা হয়েছে, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় নেতৃত্বে থাকা দুইজন সাংবাদিককে দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৩০ হাজার টাকা কোথায় যাচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, অবশিষ্ট অর্থ আমির ও জহির নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে যায়।

‎এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ঢাকা-১৬ আসনের গণমাধ্যমকর্মীদর মধ্য অসন্তোস ও সমালাচনা ঝড় উঠে। অনেকেই বলছেন এতে পেশাদার সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুন হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা প্রশবিদ্ধ হচ্ছে। আমির ও জহির এরা ছিলে ঢাকা-১৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার কাছের লোক। ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা দেশ ছেড়ে পালালেও আমিনুল হকের কাঁধে ভর করে এই দুই প্রতারক আগের মতোই সরব রয়েছেন।

‎আমিরের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা ও ছাব্বিশ লক্ষ টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগের সাংবাদ দেশের সুনামধন্য টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয়েছে, ছাপা হয়েছে অসংখ্য প্রিন্ট পত্রিকায়, অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ হয়েছে এবং বেশ কয়েকবার জেলের ঘানি টেনেছে।

‎এদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলার সাহস পাই না, কেউ তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিউজ করে হয়রানি করে। এমন কি মিথ্যা  মামলা দিয়ে হয়রানি করতে দ্বিধা করে না। তাই এলাকাবাসী আমির এবং জহিরকে মামলাবাজ ও অভিযোগকারী হিসেবে চিনে, সেইসাথে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও প্রতারক উপাধি তো আছেই।

‎পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, জহির ৫ই আগষ্টে ছাত্র হত্যা সি,আর- ৭৩৩/২০২৪ নাম্বার মামলার ১২৫ নাম্বার আসামি, যার বাদী শেখ আজিজুর রহমান। আমির ও জহির উভয়েই একাধিক মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।

‎এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হকের মিডিয়া সেল ও সাংবাদিকদের সম্মানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- আমিনুল হক কি বিষয়গুলো জেনেশুনেই তাদের কাছে ভিড়িয়েছেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে?

‎এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমিনুল হক বা তার নির্বাচনী টিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, অভিযুক্ত আমির ও জহিরের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের অভিযোগ প্রার্থীর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।  এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের পর আমিনুল হক কী সিদ্ধান্ত নেন।

ভিডিও লিংক:
https://www.facebook.com/share/v/16uhMRWaVr/

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com