রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এডভোকেট মোঃ হাসান আলী নামের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বিগত ১৫ বছর ধরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হন। পাঠদানে অনুপস্থিত থেকে ঠিকাদারি ব্যবসা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ, সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, বদলি ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন তিনি।
এডভোকেট হাসান আলী অভিযোগে উল্লেখ করেন, সিরাজুল ইসলাম নিয়মিত বিদ্যালয়ে না গেলেও হাজিরা রেজিস্টারে স্বাক্ষর করতেন। তিনি ছাত্র, অভিভাবক ও সহকর্মীদের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল আচরণ করতেন এবং প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে চলতেন। যার ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সিরাজুল ইসলাম সরাসরি সাংবাদিকতা, ব্যবসা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে ‘দাপুটে প্রশাসক’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করে ভয়ভীতি দেখান।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করতে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি অবৈধভাবে বালু ব্যবসায় জড়িত, বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা আদায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা আত্মসাতের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, তিনি পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখেন, যা নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
অভিযোগকারী বলেন, “আমি কাচালং মডেল স্কুলের একজন প্রাক্তন ছাত্র ও আইনজীবী হিসেবে বিদ্যালয়ের এই দুঃস্থ পরিস্থিতি দেখে ব্যথিত হয়েছি। আমি চাই, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ হোক।”
তিনি আরও জানান, মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা এবং উপ-পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত কার্যালয়, রাঙ্গামাটির বরাবরে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষকের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই জেলা প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “যদি এসব অভিযোগ সত্যি হয়, তবে তা কেবল একটি স্কুল নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভয়ানক হুমকি। এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
সরকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ব্যক্তি স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি উঠেছে এলাকা জুড়ে।
Leave a Reply