ফ্যাসিষ্ট সরকারের দমন-পীড়নে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া শত শত নেতা-কর্মীর মুখে ঈদের আনন্দ ফেরাতে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে এক পরিচিত মুখ—পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল রিপন। অথচ তার অতীত ঘেঁটে দেখা যায় এক ভিন্ন রূপ।
জানা যায়, ইকবাল রিপন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ভিসায় পাড়ি জমান। ৪-৫ বছর পর সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর এক মার্কিন প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান তিনি। বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রকাশ্যে এলে ওই নারী বিপুল সম্পদের বিনিময়ে ইকবাল রিপনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই নারীর নামে থাকা ঢাকার জিগাতলায় ৪ শতাংশ জমির উপর তিনতলা বাড়িটিও তার দখলে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নিজ গ্রাম ও পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে “সমাজসেবক” পরিচয়ে এলাকায় ফেরেন ইকবাল রিপন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার স্ত্রী’র আগের স্বামীর মেয়ের বিয়ে হয় সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদের ছেলের সাথে। এই সূত্র ধরেই রিপন নিজেকে কাজী ফিরোজ রশিদের “বিয়াই” হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবেই তিনি গড়ে তোলেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে আত্মসাৎ করার একাধিক অভিযোগ থাকলেও এখনো আইনের আওতায় আসেননি।
এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “দলের দুঃসময়ে উনি পাশে ছিলেন, এটা ঠিক। তবে তার অতীত এবং সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শুনেছি সামনে তিনি মেয়র নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি আমরা আগেই জানি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। তবে সঠিক অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। শুনেছি তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ছত্রছায়ায় আছেন। অবস্থান নিশ্চিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইকবাল রিপনের উত্থানের এই গল্প যেমন এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক নাটকের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি রাজনীতিকে পুঁজি করে অবৈধ উপার্জনের বাস্তবচিত্রও তুলে ধরে।
Leave a Reply