বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
বানারীপাড়ায় রাজু’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীকর্মকান্ডের অভিযোগ, হামলার শিকার বাবা-ছেলে রূপনগরে ওপেন হাউস ডে: অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার ডাক মিরপুর প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান অসুস্থ: দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ বিআরটিএ কর্মকর্তা ‘রাশেদ মিলন’র বিরুদ্ধে ৩৩নং ওয়ার্ডে আব্দুর রহমানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিতদের অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ শেরপুরে সরকারি রেস্ট হাউস দখলে উপপরিচালক, ভাড়া ভাতা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে তৎপরতা: আলোচনায় মেহেরুন্নেসা হক সাংবাদিক ‘রিয়াদুল মামুন সোহাগ’র জন্মদিন ভোলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিকের পরিবারের ওপর ফের হামলার অভিযোগ নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা না আত্মহত্যা-রহস্যে ঘেরা মৃত্যু

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায়, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫

সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ইয়াসমিন, সাংবাদিক জিএম সোহাগ এবং মোহাম্মদ আলী নামে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সাংবাদিক সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, চলতি মাসে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর কবিরের নেতৃত্বে কাউন্দিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মাদকবিরোধী এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এলাকাবাসী ও কাউন্দিয়া ফাঁড়ির পুলিশ যৌথভাবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়।

কাউন্দিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজী আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ওরফে ‘হাতকাটা বাবুল’-কে, যার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এরপর গ্রেফতার হন বাবুলের সহযোগী সাইফুল এবং ফালান নামে আরও এক মাদক ব্যবসায়ী। উল্লেখ্য, সাইফুলকেও ইয়াবাসহ আটক করা হয়। একইসাথে, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক বেচাকেনায় জড়িত মিজান নামের এক ব্যক্তিকেও ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই মাদক ব্যবসায়ীরা চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বলে জানান এলাকাবাসী। এ অবস্থায় সাংবাদিক সোহাগ, যিনি মাদকবিরোধী প্রতিবেদন ও প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন, তাকেই টার্গেট করে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আকতার কবিরাজ বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে এ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত মাদক ব্যবসায়ীরা এখন মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদীদের দমাতে চাইছে। সাংবাদিক সোহাগকে টার্গেট করে একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।

এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়ে যারা সামনে এগিয়ে এসেছেন, আজ তারাই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এখনই সময়, এসব সাহসী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

সাংবাদিক সোহাগের বক্তব্য:
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিক জিএম সোহাগ বলেন, আমি ফাঁড়ি থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। শুনেছি আমার নামে অভিযোগ হয়েছে। তবে যেদিনের ঘটনা তা পুরোপুরি ভিডিও করে রেখেছি। প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে তা উপস্থাপন করব।

পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার বিষয়ে কাউন্দিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজী আব্দুর রহিম বলেন, আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুলের বাসায় যাই। তালা লাগানো দেখতে পাই, রুমের ভিতর মাদক থাকতে পারে সন্দেহ স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে ডাবল তালা লাগিয়ে আমরা চলে যায় এবং পরের দিন বাড়ির মালিক ও এলাকাবাসী উপস্থিতিতে তালা খুলে তল্লাশি করি। তল্লাশী শেষে চাবি মসজিদ কমিটির নিকট রেখে আসি। সাংবাদিক সোহাগ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। অভিযানের একদিন পর সাইফুলের স্ত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।

এলকাবাসীর বক্তব্য:
সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও প্রশাসনের অভিযান যতই জোরদার হচ্ছে, ততই সংঘবদ্ধ মাদকচক্র পাল্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এ অবস্থায় সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com