শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান গত ছয় দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ২৪ এপ্রিলের পর থেকে তিনি অফিসে আসেননি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারটিও বন্ধ রয়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা রয়েছে। মামলায় তিনি ২৭ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ আছেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে ছাত্র ও জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আবদুল মান্নান, মিজানুর রহমান, তানজিল মাহমুদ সুজয়, আস-সাবুর ও বায়েজিদ। এরপর নিহতদের মরদেহ পুলিশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। নিহত সজলের মা শাহীনা বেগম ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়।
মাসুদুর রহমান তখন আশুলিয়া থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে শরীয়তপুরে বদলি করে ১৫ সেপ্টেম্বর পদায়ন করা হয়। ১২ ডিসেম্বর তিনি পালং মডেল থানায় তদন্ত পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
পালং মডেল থানার এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “স্যার ২৪ তারিখের পর আর অফিসে আসছেন না। শুনেছি তার মা অসুস্থ, তিনি দেখতে গিয়েছেন। তবে বিস্তারিত সিনিয়ররাই ভালো বলতে পারবেন।”
তাকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দুটোই বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) তানভীর হোসেন বলেন, “তিনি অফিসে অনুপস্থিত আছেন বলে জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। তবে অভিযোগ থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না। যথাযথ তদন্তের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
Leave a Reply