সরকার পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে দেশের ১৭টি পাথর কোয়ারির ইজারা প্রদান প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব কোয়ারি পরিচালনার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং ভূমিধসের মতো ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে টেকসই নীতি অনুসরণ করতে হবে। ইতোমধ্যে যে ১৭টি কোয়ারির ইজারা প্রক্রিয়া চলছিল, সেগুলোর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পরিদর্শন ও মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, বেশিরভাগ কোয়ারিতে যথাযথ পরিবেশগত অনুমোদন বা পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) রিপোর্ট ছিল না অথবা সেগুলো মানসম্পন্ন ছিল না। ফলে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, “উন্নয়নের জন্য পাথর প্রয়োজন, তবে সেটা পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। আমরা টেকসই ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে পরিবেশ সুরক্ষার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইজারা প্রদান করা হতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, অপরিকল্পিত খনন প্রকৃতি ও জনগণের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধুমাত্র আর্থিক লাভের কথা চিন্তা না করে এখন প্রকৃতি সংরক্ষণের দিকে মনোযোগ দেওয়া সময়ের দাবি।
Leave a Reply