কুমিল্লার এক শান্ত গ্রামের নাম বালুঘাটা। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গোমতী নদী। সেই নদী ঘিরেই বড় হয়েছে তৃষা। ছোটবেলা থেকেই সে স্বপ্ন দেখতো একদিন নদীর মতোই সে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে—দূরে, অনেক দূরে।
তৃষার বাবা একজন মাঝি। সংসার চলে না ঠিকমতো, কিন্তু তৃষার পড়াশোনার ব্যাপারে কখনো তিনি আপস করেননি। “তুই যদি শিক্ষিত হস, তবেই তো আমার জীবন সার্থক হবে,” বলতেন তিনি।
একদিন হঠাৎ বন্যা এল। গোমতী ফুলে-ফেঁপে উঠল, ভাসিয়ে নিল ঘর, স্কুল, মাঠ—সবকিছু। তৃষার পরিবার আশ্রয় নিল এক স্কুলে। সেখানেই তৃষা বোঝে, শুধু নিজের স্বপ্ন নয়, চারপাশের মানুষদের জন্যও কিছু করা দরকার।
বন্যা শেষ হলে তৃষা ঠিক করে, সে বড় হয়ে হyd্রোলজিস্ট হবে—নদী, বন্যা আর পানি নিয়েই কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ নিজের বাড়ি হারায় না, তার মতো কোনো মেয়ের স্কুল পানিতে না ভেসে যায়।
বছর দশেক পর, তৃষা ফিরে আসে বালুঘাটায়, এবার সে একজন প্রকৌশলী। গোমতীর তীরে দাঁড়িয়ে, সে বাবার মুখের দিকে চেয়ে হাসে। বাবাও হাসেন, চোখে জল নিয়ে বলেন, “তুই পারলি মা… নদীর মতোই পারলি।”
Leave a Reply