রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান শাহ আলী মাজার এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলী মাজারের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় একটি চক্র প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং মাজারে আগত ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছিল। মাজারের পবিত্র পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং আশপাশের এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছিল। এরই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাজারের ভেতরের বিভিন্ন স্থান, আশপাশের গলি এবং সন্দেহভাজন এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালায়। এ সময় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। তাদের অনেকেই মাজারের ভেতরে ও আশপাশে বসে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং সন্দেহজনক কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কিছু সরঞ্জাম ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, পবিত্র ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শাহ আলী মাজারে আগত সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ইবাদত ও জিয়ারত করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি জোরদার করবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সোনাহার আলী। তার নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক দিন ধরেই মাজারের ভেতরে ও আশপাশে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বেচাকেনা চলছিল। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের দিকে মাজার এলাকায় বিভিন্ন সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যেত, যা নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ছিলেন।
তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানকে তারা স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও যেন নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়, সে দাবি জানান। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি থাকলে মাজার এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি শাহ আলী মাজার এলাকাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা
Leave a Reply