২৮ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকা। শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে থানার সামনে ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তাদের একমাত্র দাবি শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের অপসারণ ও বিচার।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারী স্লোগান ও মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করে রাখে। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল মিরাজ। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আপনাদের দাবি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবেন এবং আগামীকাল সকালের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি তা না হয়, আপনারা চাইলে আমার অফিস ঘেরাও করতে পারেন। আমি কোনও বাধা দেব না। এই প্রতিশ্রুতির পর আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী অনেক নারী-পুরুষ সরাসরি ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এক নারী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন
“ওসি শফিকুল একজন স্বৈরাচারী চরিত্রের আওয়ামী দোসর। আমার স্বামীর নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়েছে, কারণ আমরা একটি বিএনপি পরিবার। আমি ওসিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন এই মামলায় তোমাকেও জড়াবো।
শাহ আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ওরফে বাবুর্চি জাকির অভিযোগ করেন, “ওসি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছেন, কোনও তদন্ত ছাড়াই।”
সেলিম, যুবদলের এক কর্মী, দাবি করেন এই ওসি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতাকে মাদকবিরোধী অভিযান থেকে আগেই সতর্ক করেছেন।
ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা ওসি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন—
“শারমিন নামের একজন বাড়ির মালিক থানায় অভিযোগ করেন, তার বাসায় বাবুর্চি জাকির অবৈধভাবে বসবাস করছেন এবং তাকে হুমকি দিচ্ছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া। এখানে আমার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তিনি আরও দাবি করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করতে চক্রান্ত করছে। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
বিক্ষোভের পেছনে আরও একটি মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি যুবদল ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সাজেদুল মিরাজের নামেও মামলা হয়, যা আন্দোলনকারীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার তীব্রতা ও স্থানীয় জনমতের চাপ স্পষ্টতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার সংকট নির্দেশ করছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেন এবং জনগণের অভিযোগের কতটুকু প্রতিফলন ঘটে।
Leave a Reply