চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সৎ ও সাহসী সাংবাদিক রিয়াদুল মামুন সোহাগ এর ৪০তম জন্মদিন।তিনি বর্তমানে জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন ” গ্লোবাল টেলিভিশন” এর সন্দ্বীপ প্রতিনিধি,জাতীয় দৈনিক “বাংলাদেশ সমাচার” পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসাবে কর্মরত আছেন।
এছাড়াও তিনি সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সাংবাদিক রিয়াদুল মামুন সোহাগ চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মাষ্টার রফিকুল ইসলাম এবং রওশন আরা বেগমের ৬ষ্ঠ সন্তান।
২০১২ সালে সাপ্তাহিক “জনতার কথা” পত্রিকা দিয়ে কাজ শুরু করে একে একে দৈনিক দিন প্রতিদিন,দৈনিক মাতৃজগতসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কাজ করতে করতে আজ পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন তার সাংবাদিকতা।
তিনি চট্টগ্রাম বসবাস করলেও তিনি সব সময় সন্দ্বীপের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন।যেমন,সন্দ্বীপ উপজেলার বেড়িবাঁধ,রাস্তাঘাট,স্বাস্থ ব্যবস্থা,নৌ যাতায়াতসহ স্পর্শ কাতর বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেই চলেছেন।
তার সাংবাদিক জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় আমাদের সাথে।
পরিবারসহ দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে অবস্থান করেও কেন সন্দ্বীপ নিয়ে তার সংবাদ প্রকাশ করা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি সন্দ্বীপের সন্তান।আমার বাড়ি যেহেতু সন্দ্বীপ সুতরাং প্রথমেই আমার কাজ হচ্ছে সন্দ্বীপের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলা।আমার সন্দ্বীপ নিয়ে কথা বলা শেষ হলে যদি সময় পাই তারপর বিভিন্ন এলাকার কথা আসবে।
এসময় তিনি বলেন,সন্দ্বীপের বেড়িবাঁধ নিয়ে, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।হয়তো অনেক সময় তুলে ধরতে পেরেছেন আবার কখনো হয়তো তুলে ধরতে পারেন নি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে।তবে সব সময় চেষ্টা করেছি সন্দ্বীপবাসীর সমস্যা গুলো তুলে ধরতে আর এইসব বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে অনেক কিছুর মোকাবিলা করতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বর্তমানে সন্দ্বীপে সড়ক দূর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে সন্দ্বীপ আর আগের সন্দ্বীপ নেই।আমাদের সন্দ্বীপের রত্ন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফওজুল কবির খানের একান্ত প্রচেষ্টায় আমাদের সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌ-রুটে এখন ফেরী চলাচল করছে।আর এই ফেরী চলাচলের ফলে সন্দ্বীপের প্রয়োজনীয় নিত্যদিনের মালামাল যেমন সন্দ্বীপ অতি সহজে পৌঁছে যাচ্ছে তেমনি যাতায়াত ব্যবস্থাও সহজ হচ্ছে।অন্যদিকে ফেরী চলাচলের ফলে চট্টগ্রাম থেকে বড় বড় ট্রাক,ট্রলি,বাস চলাচল করছে যা সন্দ্বীপবাসী আগে কখনো পাইনি।এইসব বড় বড় গাড়ি চলাচলের জন্য সড়ক প্রসস্থ করণের কাজ চলছে।
দূর্ঘটনা ব্যপকহারে বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব।আমাদের সড়কে কাজ চলছে তাই আমাদের দেখে শুনে চলাচল করতে হবে।সড়কের কাজ চলার কারণে আমাদের সড়কে বালি পড়ে থাকে আর তাই বালিতে স্লিপ করে অনেক সময় দূর্ঘটনা ঘটে।এছাড়া আমাদের সন্দ্বীপে মোটরসাইকেলের লাইসেন্স না লাগার কারণে অতিমাত্রায় মোটরসাইকেল সড়কে চলছে।ছোট বড় স্কুলের ছাত্ররা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালায়।
দূা্র্ঘটনা কমাতে হলে প্রথমেই জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে কিভাবে রাস্তা পারাপার হবে,মোটরসাইকেলের যাবতীয় কাগজপত্র এবং মোটরসাইকেল চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বন্ধ করতে হবে।এছাড়া প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল একদম বন্ধ করে দিতে হবে।সম্পূর্ণভাবে কোন গাড়িই লাইসেন্স বিহীন বন্ধ করে দিতে হবে।তাহলে গাড়ির কাগজপত্র সংগ্রহ করবে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে ট্রেনিং দেওয়া হয় সেটা কাজে আসবে।এছাড়া প্রধান সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমাদের সন্দ্বীপ উপজেলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যেই হয় সেই দূর্নীতি শুরু করে।তারা নিজের আখের গুছানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।কোন ডাক্তার কোন মেডিক্যালে ডিউটি করছে এই নিয়ে তার মাথাব্যথা থাকেনা।স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এখন থেকে সবচেয়ে বেশি কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমাদের স্বপ্নের ফেরী ঠিকঠাক চললে আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে তেমন কোন ঝামেলা নেই।তবে রাজনৈতিক নেতাদের মাথা ঘামাতে হবে ফেরী নিয়ে এবং আমাদের সন্দ্বীপের সাংবাদিকদের সব সময় ফেরী বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে।
যেমন,ফেরী আমাদের সন্দ্বীপবাসীর চলাচলের জন্য কিন্তু ফেরী পল্টুনে এসে নোঙর করে আর পল্টুনের পড়ে সামান্য যেই জায়গাটুকু সব সময় পানি থাকে,কাঁদাযুক্ত থাকে এটা প্রতিদিন মেরামতের জন্য সরকার টেন্ডার দিয়ে দিয়েছে যা অনেকেই জানেন না।কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে সন্দ্বীপবাসীর সেবায় নিয়োজিত লোক অথবা এইসব টেন্ডার বাটপারি করে দেওয়া হয়েছে বিআইডটিসির এক্সিয়েন এর নিজের এলাকার লোকদের অর্থাৎ নোয়াখালীর লোকদের।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে সন্দ্বীপবাসীর স্বার্থ বুঝবে সন্দ্বীপের মানুষ,নোয়াখালীর লোক আমাদের কি দুঃখ বুঝবে?কোন কাজ করে না তারা।পল্টুনের পরে এই সামান্য জায়গাটুকু সব সময় কাজ করলে আমাদের ঝামেলা শেষ,যদি সন্দ্বীপ কূলের টেন্ডার সন্দ্বীপের লোক কিন্তু তিনিও তেমন কাজ করেন না।এইসব বিষয়ে সঠিক তদারকি করতে পারলে যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা অনেকটাই শেষ হয়ে যাবে।
সর্বশেষ তিনি আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে সামনে সত্য তুলে ধরার কথা জানিয়ে সন্দ্বীপবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।সন্দ্বীপবাসীর জন্য আরো বড় পরিসরে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply