রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত এক বৃদ্ধা পরবর্তীতে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে প্রভাবশালী অভিযুক্তদের কারণে মামলা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগও উঠেছে পল্লবী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পাখি বেগম (৪০) দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীর সেকশন-১১ এর বাউনিয়াবাদ বাজার বস্তি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তার দাবি, এলাকার কালা মোতালেব নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাদের টিনশেড বাড়িটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত কালা মোতালেব বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে যান। এ সময় পাখি বেগম বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের একটি চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনার এক ঘন্টা পর রাত আনুষ্ঠানিক ১২টার দিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় পাখির বড় বোন নার্গিস, ভাই বাবু ও নাছির, মা সশিলা বেগম এবং আত্মীয় মোখলেস আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং তারা এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন পাখি বেগমের বড় বোন। এছাড়া মারধরের শিকার বৃদ্ধা সশিলা বেগম পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গত ২৪ মে দুপুর আনুমানিক ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলা গ্রহণে জটিলতার অভিযোগ তুলেছে তারা। পরিবারের দাবি, পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলসহ তিনজনের নাম অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, “অভিযুক্ত এই তিনজনের নাম বাদ না দিলে পুলিশ মামলা নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা থানা থেকে ফিরে আসেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সত্যতা জানতে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পেলে সবার নামেই মামলা নেওয়া হবে। আগের অভিযোগে ইব্রাহিম খলিলের নাম না থাকায় আমরা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তবে অভিযুক্ত ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “দ্য ক্রাইম সার্চ” কে বলেন, আমি ঘটনার আনুমানিক এক ঘন্টা পর ঘটনাস্থল যায় এবং বিস্তারিত জানতে চাইলে মোকলেছ নামের এক ব্যক্তি এগিয়ে আসেন এবং কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার লোকজনের সাথে হাতাহাতি হয়। আমি বিষয়টি সামাল দেওয়া চেষ্টা করি এবং আমার লোকজনদের নিয়ে সেখান থেকে চলে আসি।
এদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, অপরাদীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমান থাকার পরও পল্লবী থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পল্লবীর বেশির ভাগ অপরাধীরাই বিএনপির নেতাকর্মী হওয়ায় উপরের নির্দেশে ছাড় পেয়ে যায়, ওসির বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী বলেন, ওসি হাসান বাসির পল্লবীতে আসার পর, একের পর এক অপরাধ বেড়েই চলেছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী পাখি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের আরও ক্ষতি করতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply