বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লবীতে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার গৌরীপুরে বরাদ্দ হরিলুটের অভিযোগ, নেপথ্যে পিআইও আলাল উদ্দিন! কাফরুল থানায় হাজতখানায় স্বজনের সাক্ষাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রোটারি ক্লাব অব সিলেট ক্বীন ব্রিজের ১৪তম অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ঠাকুরগাঁওয়ে ১১০ পিস টাপেন্টাডল ও নগদ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সুমন খান পল্লবীতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি ও অপহরণ মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপে পুলিশ ক্লাবের বাজিমাত পল্লবীতে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মিরপুর পল্লবীতে আতঙ্কের নাম ‘সুমন’: কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেটের সময়: সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
মিরপুর পল্লবীতে আতঙ্কের নাম ‘সুমন’: কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

‎রাজধানীর মিরপুর-পল্লবী এলাকার অপরাধ জগতের এক নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘সুমন’ ও তার অনুসারী কিশোর গ্যাং। কালশী বালুর মাঠ থেকে শুরু করে পল্লবীর অলিগলি সবখানেই বিস্তৃত তার অপরাধের জাল। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে দিনের দুপুরে সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে জখম করা যেন এই গ্যাংয়ের কাছে মামুলি ব্যাপার। সম্প্রতি এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সুমন স্থানীয়দের হাতে নাতে ধরা পড়লেও ‘রাজনৈতিক বড় ভাইদের’ হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যাওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
‎
‎অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এক ডজন কিশোর অপরাধী। যাদের মূল কাজ হচ্ছে চলন্ত বাস থেকে যাত্রীদের মোবাইল বা গলার চেইন হ্যাঁচকা টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া। বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতেও দ্বিধা করে না তারা। শুধু রাস্তাঘাটেই নয়, সুমনের এই বাহিনী মাঝেমধ্যেই এলাকার সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎এলাকাবাসীর দাবি, কালশী বালুর মাঠ এলাকায় সুমনের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করা হয়। ছিনতাইয়ের সময় কেউ যদি টাকা বা মোবাইল দিতে অস্বীকার করে, তবে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “সুমন ও তার দলের কাছে ধারালো অস্ত্র সবসময়ই থাকে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কারণ প্রতিবাদ করলেই বাড়িতে হামলা হবে নয়তো রাস্তায় একা পেলে কোপানো হবে।
‎
‎গত দুই দিন আগে পল্লবী এলাকায় ছিনতাই করার সময় সুমনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা। গণধোলাই দেওয়ার পর তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চললেও ঘটনাস্থলে হাজির হন এলাকার কিছু বড় ভাই তথাকথিত ‘পাতি নেতা’। যাদের ছত্রছায়ায় থেকে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এসব সন্ত্রাসীরা। তাদের প্রভাব ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সুমনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় স্থানীয়রা। অপরাধীর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি পল্লবীর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অনিরাপত্তার জন্ম দিয়েছে।
‎
‎পল্লবী ও কালশী এলাকার বাসিন্দারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশি টহল থাকলেও সুমন ও তার কিশোর গ্যাং কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে সুমনসহ এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎এ বিষয়ে পল্লবী থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 thecrimesearch.com