আজ বুধবার, ১ মে। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের স্মারক মহান মে দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। তবে বছর ঘুরে এ দিনটি এলেও শ্রমিকদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষ থেকে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন। এসব কর্মসূচিতে শ্রমিকদের মুখে মুখে ছিল দীর্ঘ বঞ্চনার কষ্টগাঁথা। বক্তারা বলেছেন, আজও শ্রমিকরা সঠিক মজুরি, কাজের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত।
“শুধু ১ মে এলেই আমাদের কথা হয়”—শ্রমিকদের হাহাকার ঢাকার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিক হাসিনা খাতুন বলেন, “১ মে এলেই সবাই শ্রমিকের কথা মনে রাখে। কিন্তু বাকি দিনগুলোতে আমরা শুধু বেঁচে থাকি—জীবন চলে না।”
নির্মাণ শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেটে ৫০০-৬০০ টাকা পাই। সেখানে দুর্ঘটনা হলে চিকিৎসা নেই, ক্ষতিপূরণ নেই। সরকার শুধু দিবস পালন করে, আমাদের জন্য কিছুই করে না।”
দাবির পাহাড়, নেই বাস্তবায়ন:
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ একাধিক সংগঠন অভিযোগ করেছে শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি পর্যাপ্ত নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা বাস্তবায়িতও হয়নি।
অসংগঠিত খাতে কর্মরত শ্রমিকরা যেমন:
হোটেল-কর্মী, গৃহশ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, হোম-বেজড শ্রমিকরা কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, শ্রম আইন কার্যকর করতে সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে নেই কোনো অগ্রগতি।
প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তবায়ন চান শ্রমিকরা:
শ্রমিক নেতা কামাল হোসেন বলেন, “মে দিবসে ফুল দিয়ে, সভা করে লাভ নেই যদি বাস্তবে শ্রমিকের জীবন না বদলায়। আমাদের দাবি ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামাজিক সুরক্ষা চালু করা।”
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা ও আইন কার্যকর করার।
শেষ কথা:
মে দিবসের চেতনা শুধুই প্রতীকী না হয়ে যেন বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়—এই প্রত্যাশাই এখন দেশের কোটি শ্রমজীবী মানুষের।
Leave a Reply