ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ঘটে যাওয়া মা ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে ঘাতক দেবর মো. নজরুল ইসলাম (২২) কে গ্রেফতার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় বেরিয়ে আসে একটি হৃদয়বিদারক সত্য পারিবারিক কলহের জেরে খুন হন তিনজন নিরীহ প্রাণ।
যেভাবে ঘটে নির্মম হত্যাকাণ্ড:
গত ১৪ জুলাই (রবিবার) দুপুরে ভালুকা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিএন্ডটি রোড এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে উদ্ধার হয় এক নারী ও তার দুই শিশুর জবাই করা মরদেহ। নিহতরা হলেন- মোছা. ময়না আক্তার (২৫), তার মেয়ে রাইসা (৫), ছেলে নীরব (২)। তাদের গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনা জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া ও আতঙ্ক।
ঘটনার তদন্ত ও প্রযুক্তির ব্যবহার:
ঘটনার পরপরই ভালুকা থানা পুলিশ তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়। এর ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ জুলাই রাতে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যার পেছনে পারিবারিক কলহ:
গ্রেফতার নজরুল ইসলাম নিহত ময়না আক্তারের দেবর, অর্থাৎ স্বামীর ছোট ভাই। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ, সম্পত্তিগত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের মানসিক দ্বন্দ্বের কারণেই সে এই নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন দুপুরে খাবার দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো দা দিয়ে প্রথমে ময়নাকে, পরে শিশুদ্বয় রাইসা ও নীরবকে গলা কেটে হত্যা করে।
গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার:
ঘাতক নজরুল ইসলাম (২২), গ্রাম- কীর্তনখোলা, সেনের বাজার, কেন্দুয়া, নেত্রকোনার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি বটি দা, নজরুলের পরনের রক্তমাখা ভেজা লুঙ্গি, রক্তমাখা প্রিন্টের পুরাতন চাদর, ময়নার ব্যবহৃত সাদা স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও রক্তাক্ত লাল রঙের বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।
মামলা ও আইনগত পদক্ষেপ:
ভালুকা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর নজরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল তার অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য:
আজ ১৬ জুলাই সকালে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন- এটি ছিল একটি নির্মম, ঠান্ডা মাথায় ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা দক্ষতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা মূল ঘাতককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভালুকার টিএন্ডটি রোড ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এক নারীর সঙ্গে তার দুটো নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হত্যা করায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। এই হত্যাকাণ্ড যেন আর কোনো পরিবারে না ঘটে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply