রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. কাল্লু ওরফে মোস্তাকিম হোসেন ওরফে ‘বোমা কাল্লু’ (৩৭)–কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর গলা কেটে হত্যা, বিস্ফোরক ও মাদক আইনে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি এই কাল্লুর বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পল্লবী থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ জুন দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার (মামলা নং-২২) এজাহারনামীয় আসামি ছিল কাল্লু। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম আলমগীর জাহানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে তার বাম পা ভেঙে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, কাল্লু পল্লবী ও বিহারী ক্যাম্প এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যাসহ অন্তত চারটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বস্তি ও ক্যাম্প এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ছিল তার কৌশল। অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লুটপাট ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং নতুন আরও একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, কাল্লু একজন চিহ্নিত ও ভয়ংকর অপরাধী। তার গ্রেফতারে পল্লবী ও মিরপুর এলাকার মানুষ স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। তার সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘বোমা কাল্লু’র ভয়ে দীর্ঘদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তার গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তির পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পল্লবীতে অপরাধ প্রবণতা কমবে।
Leave a Reply