রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২, পূর্ব কুর্মিটোলা বস্তিতে অবস্থিত ‘কাকলী টি অ্যান্ড কফি হাউজ’ নামক এক সুনামধন্য চায়ের দোকানে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে নারীসহ দুজনকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত দলবদ্ধ হামলা।
ভুক্তভোগী দোকান মালিক মোঃ গাজী নুরুজ্জামান (৪৫) পল্লবী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তার দোকানে কর্মরত ১২ বছর বয়সী স্টাফ ইমনকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে শুক্রবার (৪ জুন ২০২৫) বিকাল ৪টার দিকে আশিক (৩৫), তার স্ত্রী রুমি বেগম (৩০), রুমির বড় বোন শাবানা (৩৫) এবং আশিকের বড় বোন রেশমী (৪০) মিলে হঠাৎ দোকানে ঢুকে ইমন (১২) ও দোকান মালিকের স্ত্রী নাসরিন (৩৫)–কে বেধড়ক মারধর করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইমনকে মারধরের সময় নাসরিন ছেলেটিকে রক্ষা করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ফুলা জখম হয়। অভিযুক্ত রুমি তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করে। এ সময় হামলাকারীরা দোকানের ক্যাশে থাকা প্রায় দশ হাজার নগদ টাকা এবং আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকার সিগারেট লুট করে নিয়ে যায়। সেইসাথে দোকানের কাপ-পিরিচ ও অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে প্রায় দুই হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি করে।

পরবর্তীতে রুমির বোন জামাই নাদিম (৩৬) এসে দোকান মালিকের স্ত্রী নাসরিনকে মারতে উদ্যত হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে রুমি পানির কলস দিয়ে বারবার আঘাত করে নাসরিনের মাথা ও শরীরে। উপস্থিত লোকজন বাধা দিতে চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা আরও লোকজন এনে পুনরায় আক্রমণ করে।
সরজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় অনেক লোক জড়ো হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় দোকান মালিক ও তার স্ত্রীকে ‘জানে মেরে ফেলার’ হুমকি দিয়ে যায়।
দোকান মালিক গাজী নুরুজ্জামান বলেন, আমার স্ত্রীকে যেভাবে নির্দয়ভাবে মেরেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি ঘটনার সময় উপস্থিত জনতার মুখে শুনেছি যারা আমার স্ত্রীকে ছাড়াতে এসে ছিলো তাদের মধ্যে একজন মহিলা আহত হয়েছে এবং অনেকেই তাদের লাঞ্চনার শিকার হয়েছে। এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অন্যদিকে, আহত নাসরিন জানান, আমি ছিলাম দোকানের ভিতরে এবং তারা ছিলো অনেকটা দুরে রোডের উপর থেকে কথা কাটাকাটি করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে রুমি ও তার ছেলেসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা দোকানের ভিতর ডুকে আমার দোকানের স্টাফ ইমনকে মারধর করতে থাকে, আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাকেও মারধর করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তারা কাউকে কিছু জানার বা বোঝার সুযোগ না দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মারামারি, চুরি, প্রতারণা এবং এনজিও মালামাল নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এদের পরিবার নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না, কারণ প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হয়। এমনকি এনজিও’র মালামাল পাইয়ে দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
Leave a Reply