রাজধানীর পল্লবী থানাধীন পূর্ব কুর্মিটোলা এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত নারী মাদক ব্যবসায়ী ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ শাহজাদী বেগমসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মিরপুর সেনা ক্যাম্পের সহযোগিতায় পল্লবী থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পূর্ব কুর্মিটোলায় শাহজাদী বেগমের দোতলা বাড়িতে এই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে পল্লবী থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সুনির্দিষ্ট গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে এম আলমগীর জাহানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন)সহ এক প্লাটুন পুলিশ ফোর্স অংশ নেয়। পাশাপাশি মিরপুর সেনা ক্যাম্পের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা সদস্য অভিযানে সহায়তা করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় শাহজাদী বেগমের বাড়ির নিচতলার দুটি শয়নকক্ষ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৪৬০ গ্রাম হেরোইন, ৫৮০ গ্রাম গাঁজা এবং ৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

এ সময় শাহজাদী বেগম ছাড়াও তার সহযোগী মো. রনি, মো. ইসলাম ও বেলিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত চারজনেরই বাড়ি পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২, ব্লক-ডি, পূর্ব কুর্মিটোলা ক্যাম্প এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শাহজাদী বেগম দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর-পল্লবীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এলাকায় তিনি ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে এবং এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তার নামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য রাজধানীর অপরাধ জগতের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল বলে দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক ও সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply